‘চিকেনস নেক’ করিডোরে ৪০ কিলোমিটার পাতাল রেল তৈরির পরিকল্পনা ভারতের – DesheBideshe

‘চিকেনস নেক’ করিডোরে ৪০ কিলোমিটার পাতাল রেল তৈরির পরিকল্পনা ভারতের – DesheBideshe

‘চিকেনস নেক’ করিডোরে ৪০ কিলোমিটার পাতাল রেল তৈরির পরিকল্পনা ভারতের – DesheBideshe

নয়াদিল্লি, ০৩ ফেব্রুয়ারি – জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্যে আছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ঢাকা এবার চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত তাদের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চল ঘিরে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সংবেদনশীল এই এলাকায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাতাল রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে দেশটি।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এ পরিকল্পনার কথা জানান।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য, যেগুলো ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত, সেগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের একমাত্র পথ হলো শিলিগুড়ি করিডোর। ভৌগোলিকভাবে এই করিডোরটি খুবই সরু, কোথাও কোথাও এর প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার। ভারতের এই দুর্বল জায়গা বা চিকেনস নেকের চারদিকে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান রয়েছে, আর কয়েকশ কিলোমিটার দূরেই চীনের সীমান্ত। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে উত্তর-পূর্ব ভারত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রেল মন্ত্রণালয়ের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেট বরাদ্দ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলার সময় অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের অন্য অংশের সঙ্গে যুক্ত রাখার জন্য ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কৌশলগত করিডোরে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে ভূগর্ভস্থ রেললাইন বসানো হবে এবং বর্তমান রেললাইনগুলো চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলবে।

নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানান, এই ভূগর্ভস্থ অংশটি পশ্চিমবঙ্গের তিন মাইল হাট থেকে রাঙাপানি স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তার ভাষায়, নিরাপত্তার দিক থেকে এই পাতাল অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও জানান, এই ভূগর্ভস্থ রেললাইনের একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরার দিকে যাবে, যা ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

রেললাইনগুলো সমতল ভূমি থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৪ মিটার গভীরে বসানো হবে। বর্তমানে যে দুই লেনের রেললাইন আছে, সেগুলো চার লেনে উন্নীত করা হবে। সব মিলিয়ে এই কৌশলগত করিডোরে মোট ছয়টি রেললাইন থাকবে—চারটি থাকবে মাটির ওপরে এবং দুটি থাকবে মাটির নিচে।

ভারতের কাছে এই করিডোর দীর্ঘদিন ধরেই একটি দুর্বল অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের সমস্যা হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, ফলে জরুরি সরবরাহ ও সৈন্য চলাচলের পথ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এনএন/ ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



Explore More Districts