
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর- চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজ, গুম ও খুনসহ বিভিন্ন সামাজিক অনাচার দিন দিন বেড়ে চলেছে এবং এসব অনাচার ঠেকাতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আইএবির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পার হয়ে গেছে। স্বাধীনতার জন্য মানুষ জীবন দিয়েছে এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। কিন্তু এখনো মানুষ প্রকৃত মুক্তি পায়নি। একই নীতিতে দেশ পরিচালনা চলতে থাকলে স্বাধীনতার হীরকজয়ন্তী ও শতবর্ষও উদযাপন করা হতে পারে, কিন্তু তাতে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজ, গুম, খুনসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনাচার দিন দিন বাড়ছে। এসব সামাজিক অনাচার দূর করতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। জনগণ বিভিন্ন দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেখেছে। কিন্তু প্রচলিত নীতিতে কোনো দলই রাষ্ট্র ও সমাজে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারেনি। নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহারের কথা পরে ভুলে গিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুফতি রেজাউল করীম বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কখনো নীতির সঙ্গে আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। নীতির পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই জনগণ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে।
সম্মেলনে আইএবির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে দলের শীর্ষ নেতারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে আর চাঁদাবাজি ও প্রতারণা থাকবে না—এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু এখনো সেই কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা ও বিলম্ব করছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে জনগণের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো গোপন এজেন্ডা নেই। অতীতে, বর্তমানে ও ভবিষ্যতে দলটি প্রকাশ্যেই বলে আসছে, তারা ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়ন করতে চায়।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আইএবির সভাপতি শেখ ফজলে বারী মারুফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কেএম শরিয়তউল্লাহ।
এতে আরও বক্তব্য দেন আইএবির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম, মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি জিএম রুহুল আমিন, আলহাজ এমএইচ মোস্তফা, আলহাজ আবদুর রাজ্জাক, মহানগর উত্তরের সহসভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম, মাওলানা ফরিদুল ইসলামসহ অনেকে।
এস এম/ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
চরমোনাই পীর ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কী বলেছেন?
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজ, গুম ও খুনসহ বিভিন্ন সামাজিক অনাচার নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন।
কোথায় বক্তব্য দেন চরমোনাই পীর?
রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি বক্তব্য দেন। আগের দিনের দলীয় ঘোষণায় সম্মেলনের স্থান হিসেবে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের কথা জানানো হয়েছিল।
জুলাই সনদ নিয়ে কী বলেছেন গাজী আতাউর রহমান?
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা ও বিলম্ব করছে। তাঁর মতে, এতে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থান কী?
গাজী আতাউর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, দলটি প্রকাশ্যেই ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়নের কথা বলে আসছে।
চরমোনাই পীরের অভিযোগ কি সরকারি তথ্য?
না। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অন্যান্য সামাজিক অনাচার নিয়ে তাঁর বক্তব্যকে রাজনৈতিক অভিযোগ ও মতামত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।


