আড়াই’শ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে রোগীর অস্বাভাবিক চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্টের প্রকোপ বৃদ্ধির ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওয়ার্ডের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ায় অনেক রোগীকে মেঝে এবং হাসপাতালের বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে, যা হাসপাতালের নাজুক অবস্থার চিত্র তুলে ধরছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে (মোট ৭ দিনে) শিশু ওয়ার্ডে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৪০০ জন। এদের মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩ মাস বয়সী এক শিশু এবং খিচুনীতে আক্রান্ত হয়ে ৭ বছর বয়সী এক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। তবে আশার কথা হলো, এই ৭দিনে সুস্থ হয়ে ২১৫ জন শিশু ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
প্রতিদিনের ভর্তির চিত্র বিশ্লেষণ করলে রোগীর চাপের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
খবর নিয়ে জানা যায় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গত ১৯ নভেম্বর মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১৫৯ জন। ২০ নভেম্বর এই অবস্থান ছিল ১৫৬ জন। এরপর ২১ নভেম্বর ১২৬ জন, ২২ নভেম্বর ১৬৬ জন, ২৩ নভেম্বর ১৫৪ জন, ২৪ নভেম্বর ১৪৯ জন এবং ২৫ নভেম্বর ১৫৬ জন রোগী ভর্তি ছিল। সর্বশেষ ২৬ নভেম্বর বুধবার বিকেল পর্যন্ত ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪১ জনে।
অনুমোদিত শয্যার তুলনায় রোগীর এই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে ডাক্তার ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব রোগীরা শয্যা না পেয়ে মেঝেতে এবং হাসপাতালের করিডোরে বিছানা পেতে চিকিৎসাসেবা নিতে দেখা যায়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যাই সর্বাধিক। মূলত ঋতু পরিবর্তন ও শীতের আগমনের ফলেই শিশুরা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
রোগীর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি গত এক সপ্তাহে দু’জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে গত ২৪ নভেম্বর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩ মাস বয়সী এক ছেলে শিশু মারা যায়। এর পরদিন, ২৫ নভেম্বর খিঁচুনি রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭ বছর বয়সী এক ছেলে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিতে শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া এবং ঠান্ডা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি/
২৭ নভেম্বর ২০২৫


