জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত চার উপদেষ্টা সহ সরকারি দপ্তরের বিশেষ ব্যক্তিবর্গ নিয়ে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে “চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্প” মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আজ রোববার (১৯ জানিয়ারি) দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে এই মতবিনিময়সভা শুরু হয়। মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জরুরি মতবিনিময় করেন উপদেষ্টারা। সভার আগের দিন গতকাল শনিবার বিকেলে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন তিন উপদেষ্টা। ওই তিন উপদেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। সংকট নিরসনে একটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে চার মাস সময় বেঁধে দিয়ে, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য লক্ষ্য দেওয়া হবে সংস্থাগুলোকে এবং লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে সংস্থাগুলোকে জবাবদিহি করতে হবে বলে জানান তাঁরা।
দায়িত্বপ্রাপ্ত চার উপদেষ্টা হলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান; শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আদিলুর রহমান খান; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ফারুক-ই-আজম; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তাঁদের সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন।
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে আমরা চট্টগ্রামে এসেছি। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে একটা দৃশ্যমান উন্নতির চেষ্টা করছি। এ কর্মপরিকল্পনা সংস্থাগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হবে। মার্চের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য কিছু সুনির্দিষ্ট কাজ তাদের দেওয়া হবে। কোনো অজুহাত শোনা হবে না। ব্যর্থতার দায় তাদের নিতে হবে। আমরা একটা দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখতে চাই। না হলে এসব প্রকল্পের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা, আমরা ভেবে দেখব।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। খালগুলো ভরাট হওয়ার তিনটি বড় কারণ আছে। খালের জায়গায় ব্যক্তি মালিকানায় বড় ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। পাহাড় কাটার ফলে মাটি পড়ে এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকে খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এবং পলিথিন বর্জনে আমাদের কঠোর নজরদারি থাকবে। প্রথমত আমরা সুপারশপ গুলোর উপর অভিযান পরিচালনা করবো তারপর বাজারের উপরও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে মার খেয়ে গেছি, ২৫ সালে উপদেষ্টা হয়েছি, এখনো আকবরশাহতে পাহাড় কাটা চলছে। এক আকবরশাহ পাহাড় বাঁচাতে ২০১৫ সাল থেকে মামলা করে আসছি। ২০২৩ সালে এসে মার খেয়ে গেছি। আজ ২০২৫ সাল অবস্থান বদলেছে, আমি উপদেষ্টা হয়েছি। এখনো আকবরশাহতে পাহাড় কাটে। কেমন করে কাটে? আপনারা বিদ্যুৎ-পানির লাইন দেন কেন? আপনারা পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করেন না কেন? আপনারা বিদ্যুতের লাইন দেন কেন? আমাদের সকলকেই যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে’।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, খালের জায়গায় ব্যক্তি মালিকানায় যে স্থাপনা গুলো গড়ে তোলা হয়েছে ওগুলো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পর তাদের কে সরকার থেকে কোনও অর্থায়ন প্রদান না করার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় দীর্ঘায়িত হচ্ছে, দ্রুত অর্থায়ন কাজ সম্পন্ন করা হলে আমাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে।
এরই সাথে মতবিনিময় সভায় নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন আরও অনেকেই।
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) দুটি, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চার প্রকল্পে মোট ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি সবচেয়ে বড়। ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হলেও কোনো সুফল পায়নি নগরবাসী।
এসসি/সিটিজিনিউজ



