ঘুষখোর কর্মকর্তার পক্ষে আন্দোলন: প্রশ্নের মুখে যশোরের শিক্ষা প্রশাসন

ঘুষখোর কর্মকর্তার পক্ষে আন্দোলন: প্রশ্নের মুখে যশোরের শিক্ষা প্রশাসন

যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় দুদকের হাতে হাতেনাতে আটক, মামলা ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় জেলায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর তার পক্ষে কয়েকজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার আন্দোলন নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

দুদক জানায়, প্রমাণসহ গ্রেপ্তারের পরও ঝিকরগাছাসহ কয়েকটি উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা ভার্চুয়াল নির্দেশে শিক্ষকদের এনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপির মাধ্যমে অভিযুক্তকে নির্দোষ দাবি করেন। এতে অংশ নেওয়া এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অফিসের চাপে তারা কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন।

অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘুষের অভিযোগে গ্রেপ্তার কর্মকর্তার পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের নৈতিক দায়িত্বের পরিপন্থী। বিশ্লেষকদের মতে, এতে দুর্নীতি দমন কমিশনের ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক আল-আমিন জানান, শতভাগ প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযান ও মামলা হয়েছে এবং সব আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের গঠিত তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি মাঠপর্যায়ের কাজ শেষ করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা প্রশাসনে আত্মশুদ্ধি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিক শিক্ষা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

Explore More Districts