গ্রাম ও শহর: বৈষম্য বৃদ্ধির প্রক্রিয়া যেখানে চলমান

গ্রাম ও শহর: বৈষম্য বৃদ্ধির প্রক্রিয়া যেখানে চলমান

কারণ, যোগসাজশের অর্থনীতির সূতিকাগার হলো শহর, গ্রাম তার জোগানদাতা। গ্রাম শুষে শহর ঝকঝকে হয়ে উঠছে। শহরের একশ্রেণির মানুষ বিত্তবৈভবের মালিক হচ্ছেন। গ্রাম ও শহরের মধ্যে বৈষম্য সাদা চোখ বা কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে দেখা সহজ নয়। যেমন গ্রামাঞ্চলে প্রকল্পভিত্তিক যে চাষাবাদ শুরু
হয়েছে, তাতে অর্থলগ্নিকারী হলেন শহর বা আধা শহরের বিত্তবান। এ চাষাবাদের সঙ্গে জমির মালিক, মধ্যস্বত্বভোগী/গভীর নলকূপের অপারেটর এবং প্রকল্পের অর্থলগ্নিকারী জড়িত। কোনো প্রজেক্টের আওতায় একজন কৃষকের এক বিঘা জমি থাকলে তাঁর স্বাধীনভাবে চাষাবাদ করা কঠিন হচ্ছে। 

গভীর নলকূপের অপারেটরের সঙ্গে প্রকল্পে অর্থ লগ্নিকারীর রয়েছে বিশেষ যোগসাজশ। ফলে কৃষক চাইলেই নিজের জমি ইচ্ছেমতো চাষাবাদ করতে পারছেন না। কাগজপত্রে কৃষকের জমির মালিকানা থাকছে, কিন্তু বাস্তবে তিনি চাষাবাদের স্বাধীনতা হারাচ্ছেন। এভাবেই শহুরে বা আধা শহরের পুঁজির প্রবেশ ঘটছে গ্রামে। কৃষিতে একধরনের নয়া উপনিবেশবাদ সৃষ্টি হয়েছে।

পুকুর বা ঘের লিজের নামে লিজ লাভকারী জলাধারের ওপর একচেটিয়া মালিকানা লাভ করছেন। এসব জলাধার থেকে কেউ এক ছটাক পানি নিতে পারেন না। ফলে খরা মৌসুমে জলাধারসংলগ্ন চাষের জমিগুলো ঝুঁকিতে পড়ে। মোটকথা, গ্রামকে শাসিয়ে শহরের জোগানের উপযোগী করা হচ্ছে। গ্রাম তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। পাবলিক প্রপার্টির ওপর জনগণের মালিকানাবোধ ক্ষীণ হয়ে আসছে। 

গ্রাম ও শহরের বৈষম্য সমতাভিত্তিক উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার, ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ ই স্টিগলিৎজ তাঁর দ্য গ্রেট ডিভাইড গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, বৈষম্য সমাজে বিভাজনের মূল কারণ। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী অর্থনৈতিক নীতিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছিল। কর্মসূচিভিত্তিক উন্নয়ন-পরিকল্পনা ছিল রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দর্শন। সে জায়গা থেকে সরে বাংলাদেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকল্পভিত্তিক অ্যাডহক অ্যাপ্রোচ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে প্রকল্পশাসিত দেশ। 

Explore More Districts