
মস্কো, ১৮ ফেব্রুয়ারি – চীন কিংবা রাশিয়া কেউই গোপনে কোনো পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ক্রেমলিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ যুক্তরাষ্ট্রের তোলা ওই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এর আগে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে করা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তোলে যে ২০২০ সালে চীন গোপনে একটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে নতুন ও আরও বিস্তৃত একটি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির আহ্বান জানায়। ওই চুক্তিতে রাশিয়ার পাশাপাশি চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষার বিষয়ে আমরা বহুবার অভিযোগ শুনেছি। এসব ক্ষেত্রে রুশ ফেডারেশন ও চীনের নাম উঠে এসেছে। তবে বাস্তবতা হলো রুশ ফেডারেশন কিংবা চীন কেউই কোনো পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানি যে এসব অভিযোগ গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের একজন প্রতিনিধির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করা হয়েছে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি এটাই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ের ওপর চাপ তৈরি করছেন যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে চীনকে যুক্ত করে একটি নতুন চুক্তির আলোচনায় বসে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে এই চুক্তিটি নিউ স্টার্ট চুক্তির বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ চালু থাকা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিউ স্টার্টের মেয়াদ গত ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অনেক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে বিশ্ব দ্রুতগতির পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে। তবে অনেকেই আবার বলছেন এই ধরনের আশঙ্কা অতিরঞ্জিত।
চলতি মাসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমাস ডিন্যানো চীনের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন চীন পারমাণবিক বিস্ফোরকের পরীক্ষা চালিয়েছে এবং এর মধ্যে ২০২০ সালের ২২ জুন একটি পরীক্ষার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। টমাস ডিন্যানো দাবি করেন চীন পারমাণবিক বিস্ফোরকের পরীক্ষা চালিয়েছে এবং সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবগত আছে। তারা শত শত টন বিষ্ফোরণের ক্ষমতাসম্পন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিয়েছে।
মার্কিন এই আন্ডার সেক্রেটারি আরও বলেন ২০২০ সালের ২২ জুনে চীন এমন একটি পরীক্ষা চালায় এবং বেইজিং এই কার্যক্রম আড়াল করার জন্য ডিকাপলিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এই পদ্ধতিতে ভূকম্পন মাপক যন্ত্রে এর প্রভাব শনাক্ত হয় না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগকে একেবারে মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেছে চীন।
এনএন/ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


