
বিসাউ, ২৭ নভেম্বর – পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি-বিসাউয়ে একদল সামরিক কর্মকর্তা ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, দেশের প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এমবালোকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববারে (২৩ নভেম্বর) হয়ে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের ঠিক আগ মুহূর্তে দেশটিতে এমন ঘটনা ঘটলো।
গত পাঁচ দশকে পর্তুগালের সাবেক এই উপনিবেশে অন্তত নয়বার অভ্যুত্থান বা অভ্যুত্থানচেষ্টা হয়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট এমবালো আগেও বহুবার দাবি করেছেন যে তিনি অভ্যুত্থানচেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি কখনো কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট সৃষ্টি করেন, যাতে বিরোধীদের দমন করা যায়।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানী বিসাউয়ে গুলির শব্দ শোনা যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিবিসিকে জানায়, এমবালোকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে ওই কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে জানান, তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত করেছেন।
রোববার (২৩ নভেম্বর) পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর)। এই নির্বাচনে এমবালো ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফার্নান্দো দিয়াস, দুজনই বিজয়ের দাবি করেছিলেন। জানা গেছে, দিয়াসকে সমর্থন দিচ্ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডোমিঙ্গোস পেরেইরা, যিনি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ পড়েছিলেন।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার বিকেলে ফ্রান্স ২৪–কে ফোনে এমবালো বলেন, আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। এরপর সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্র বিবিসিকে জানায়, দিয়াস, পেরেইরা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বোচে কান্দেকেও আটক করা হয়েছে।
অভ্যুত্থানকারীরা সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল বিয়াগে না এনটান ও তার সহকারী জেনারেল মামাদু তোরেকেও হেফাজতে নিয়েছে বলে সূত্রগুলো জানায়।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরের দিকে বিসাউ শহরে গুলির শব্দ শোনেন স্থানীয়রা। তবে কারা গুলি চালিয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা প্রথমে পরিষ্কার ছিল না। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গুলির শব্দ শুনে শত শত মানুষ পায়ে হেঁটে ও গাড়িতে করে সুরক্ষার জন্য ছুটতে থাকে।
পরে প্রেসিডেন্ট ভবনের সামরিক পরিবারের প্রধান জেনারেল দেনিস এন’কানহা এক বিবৃতি পড়ে ক্ষমতা গ্রহণের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সেনা কর্মকর্তারা ‘ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উচ্চ সামরিক কমান্ড’ গঠন করেছেন। সেসময় তিনি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে, পর্তুগাল এক বিবৃতিতে দেশটিতে সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে। পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে প্রতিষ্ঠানবিরোধী বা সহিংস কোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।
অন্যদিকে, অভ্যুত্থানকারীরা বলেন, একটি ষড়যন্ত্র ঠেকাতে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাদের দাবি, ‘একজন পরিচিত মাদক সম্রাটের সমর্থন পেয়ে কিছু রাজনীতিবিদ দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পরিকল্পনা করছিলেন। অভ্যুত্থানের আগে সেনা সদস্যরা সীমান্ত বন্ধের ঘোষণা দেন ও রাতে কারফিউ জারি করেন।
সেনেগাল ও গিনির মাঝখানে অবস্থিত এই দেশটি স্বাধীনতার পর থেকেই অভ্যুত্থানপ্রবণ। ১৯৭৪ সালে পর্তুগালের হাত থেকে স্বাধীনতার পর থেকেই এখানে সামরিক বাহিনী প্রবল প্রভাবশালী। দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে মাদক পাচারের কেন্দ্র হিসেবেও কুখ্যাত।
গিনিয়া-বিসাউ বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি, যার জনসংখ্যা ২০ লাখের বেশি। দেশটির উপকূলে বহু জনমানবহীন দ্বীপ রয়েছে, যা মাদক পাচারকারীদের জন্য আদর্শ পথ। লাতিন আমেরিকা থেকে ইউরোপমুখী কোকেন পরিবহনের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় জাতিসংঘ দেশটিকে ‘নার্কো-স্টেট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সূত্র: জাগো নিউজ
এনএন। ২৭ নভেম্বর ২০২৫



