স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর ২৫ ইং এ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি নতুন আঙ্গিকে সাজাতে কার্যকর সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
স্বল্প সময়ের মধ্যেই তার পরিকল্পিত পদক্ষেপ ও সৃজনশীল চিন্তাধারা জেলা পরিষদের সার্বিক কর্মকাণ্ডে গতি এনেছে, যা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ভাঙচুরে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই ধ্বংসস্তূপকে অবহেলায় ফেলে না রেখে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেখানে নান্দনিক রূপায়ণের উদ্যোগ নেন। ভাঙা মোড়ালের এক পাশে গাজীপুর জেলার মানচিত্র এবং অপর পাশে বাংলাদেশের মানচিত্র শিল্পসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলে সেটিকে একটি প্রতীকী স্থাপনায় রূপ দেওয়া হয়। এতে শুধু প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়নি, বরং ধ্বংসের স্থানে সৃজনশীল পুনর্গঠনের এক ইতিবাচক বার্তাও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই তিনি প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আইডি কার্ড প্রবর্তন, নতুন অফিস রেজিস্টার সংযোজনের মাধ্যমে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা জোরদার, অফিস কম্পাউন্ডে গাজীপুর ও বাংলাদেশের মানচিত্র স্থাপন, দীর্ঘদিন বেহাত হয়ে থাকা মূল্যবান জমি উদ্ধারে উদ্যোগ এবং রাজস্ব আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য বকেয়া পরিশোধ, নতুন ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা, জেলা পরিষদের আওতাধীন মার্কেট ও হাট-ঘাট পুনরুদ্ধার, কর্মচারীদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানে এসেছে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা।
প্রশাসনের অভ্যন্তরে দায়িত্ববোধ ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধির পাশাপাশি জেলা পরিষদকে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার এ প্রচেষ্টা স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের অভিমত, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে গাজীপুর জেলা পরিষদ শিগগিরই দেশের একটি আদর্শ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ হয়ে উঠবে।



