স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরে ৫টি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই—বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই—বাছাই শেষে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে নির্বাচনী সমীকরণে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে জেলার পাঁচটি আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। যাচাই—বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন বৈধ ও বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের তালিকা ঘোষণা করেন। বাছাইকালে প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ৫৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে নানা অসঙ্গতির জন্য ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এতে ৩৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। গাজীপুরের আসনগুলোতে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রগুলোর মধ্যে যাচাই বাছাইয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)—এর কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি।
গাজীপুর—১ (কালিয়াকৈর) মোট ৮জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা প্রদান করেন। এদের মধ্যে দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এরা হলেন— জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুল ইসলাম ও গণফ্রন্টের মোঃ আতিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র। যথাযথ কাগজপত্র দাখিল না করায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বাছাইয়ে এ আসনে যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয় তারা হলেন— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহ আলম বকশী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)—এর তাসলিমা আক্তার, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইমারাত হোসেন খান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন।
গাজীপুর—২ আসনে সর্বাধিক ১৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই—বাছাই শেষে ৮জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এক শতাংশ ভোটারের বৈধ সমর্থন না থাকায় খন্দকার রুহুল আমিন, জিত বড়ুয়া ও তাপসী তন্ময় চৌধুরী বাদ পড়েন। হলফনামায় তথ্যের অসঙ্গতির কারণে গণঅধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান খান, মোঃ আতিকুল ইসলাম, যথাযথ হলফনামা না থাকায় জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ ইসরাফিল মিয়া, হলফনামা ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর না থাকায় জনতার দলের মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম এবং হলফনামা ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এ আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী হিসেবে টিকে আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মুহাম্মদ হোসেন আলী, বিএনপি মনোনীত এম মঞ্জুরুল করিম রনি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হানিফ সরকার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোঃ জিয়াউল কবির, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)—এর মাসুদ রেজা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সরকার তাসলিমা আফরোজ, জাতীয় পার্টির মোঃ মাহবুব আলম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)—এর আব্বাস ইসলাম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আলী নাছের খান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)—এর মোঃ আব্দুল কাইয়ুম।
গাজীপুর—৩ (শ্রীপুর) আসনে মোট ১০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই—বাছাই শেষে কাগজপত্রে ত্রুটি ও শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কারণে ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। যারা বাদ পড়েছেন তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সাব্বির আলী ও ইজাদুর রহমান মিলন, ইসলামী ঐক্য জোটের হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমেদ।
এ আসনে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি মনোনীত এস এম রফিকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মোঃ নাজিম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলমগীর হোসাইন।
গাজীপুর—৪ (কাপাসিয়া) আসনে দাখিল হওয়া মোট নয়টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে চারটি বাতিল করা হয়। তাদের মধ্যে ইনকাম ট্যাক্স বকেয়া ও এক শতাংশ ভোটারের তালিকার ঘাটতির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হাসেম, একই কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শফিউল্লাহ, হলফনামা যথাযথ না থাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ কাজিম উদ্দিন এবং হলফনামা ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর না থাকায় আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)—এর মোঃ জাকির হোসেন বাদ পড়েন।
এ আসনে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সালাহ উদ্দিন আইউবী, বিএনপি মনোনীত শাহ রিয়াজুল হান্নান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মনির হোসেন, জাতীয় পার্টির এনামুল কবির এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মানবেন্দ্র দেব।
গাজীপুর—৫ আসনে আটজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য না থাকায় জাতীয় পার্টির ডাঃ মোঃ শফিউদ্দিন সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং প্রস্তাবক না থাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোঃ রুহুল আমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য করা হয়।
এ আসনে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মোঃ খায়রুল হাসান, বিএনপি মনোনীত এ কে এম ফজলুল হক মিলন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোঃ আল আমিন দেওয়ান, জনতার দলের মোঃ আজম খান, গণফোরামের মোঃ কাজল ভূঁইয়া এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান।
সব মিলিয়ে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ৫৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ৩৪ জন প্রার্থী বৈধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর যাচাই—বাছাইয়ের ফলে নির্বাচন আরও প্রতিযোগিতামূলক ও নিয়মতান্ত্রিক রূপ পেয়েছে, আর জামায়াত ও বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ থাকায় এই দুই দলের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়েছে।


