স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী স্টেশন রোড সংলগ্ন ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক-এর পাশে ফুটপাত দখল করে কথিত সড়ক পরিবহন শ্রমিক দল এর অফিস নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে । স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর নামের ওই ব্যক্তি গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি-এর পোস্টার টাঙিয়ে মহাসড়কের পাশের ফুটপাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন। পরে সেটিকে সড়ক পরিবহন শ্রমিক দল-এর অফিস হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। ঘটনার দিন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি নজরে আসে আরিফ হোসেন হাওলাদার-এর। তিনি গাড়ি থেকে নেমে ফুটপাতে নির্মিত ঘরটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জাহাঙ্গীরের কাছে জানতে চান, কোন অনুমতিতে ও কার নির্দেশে এ স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরিফ হোসেন হাওলাদার বলেন,গাজীপুরে রাস্তার পাশে কোনো ফুটপাত চাঁদাবাজ বা দখলদারদের করতে দেওয়া হবে না। জনগণের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি করে দলীয় নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নির্দেশনা রয়েছে—দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা দখলবাজি করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনের আওতায় এনে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আরিফ হাওলাদারের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তারা ওই ঘরটি ভেঙে ফেলেন এবং জাহাঙ্গীরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন খান বলেন, মহাসড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যথাযথ ধারায় মামলা রুজু করে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মহাসড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।



