গাছে গাছে আমের মুকুল, ছড়াচ্ছে সমধুর ঘ্রাণ

গাছে গাছে আমের মুকুল, ছড়াচ্ছে সমধুর ঘ্রাণ

গাছে গাছে আমের মুকুল, ছড়াচ্ছে সমধুর ঘ্রাণ

শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনী বার্তার সাথে সাথে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন আমগাছ গুলোতে দেখা দিয়েছে মুকুলের সমারোহ। গাছে গাছে হলদে-সবুজ রঙের মুকুলে যেন প্রকৃতি নিজেই সাজিয়েছে নতুন সম্ভাবনার চাদর। উপজেলার গ্রামীণ জনপদ, বাড়ির আঙিনা ও বাণিজ্যিক আমবাগানে এখন ভোরের বাতাসে ভেসে আসে মুকুলের মিষ্টি সুবাস। কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতালে ফাগুনের উত্তাল বাসন্তী হাওয়া দিচ্ছে দোলা। গাছে গাছে আমের মুকুল, ছড়াচ্ছে মৌ মৌ ঘ্রাণ। আগুন ঝরা ফাগুনে গাছে গাছে জেগে উঠছে সবুজ পাতা। প্রকৃতির পালাবদলে এ উপজেলায় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল।

শহর থেকে শুরু করে গ্রামের বসতবাড়ির আঙ্গিনার আম গাছগুলোতে এমন সুন্দর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। থোকা থোকা মুকুলের ভারে ঝুলে পড়েছে আম গাছের ডালাপালা। গাছে মুকুলের সঙ্গে গুটি আমের দেখাও মিলছে। জানান দিচ্ছে মধুুমাসের আগমনী বার্তা।

স্থানীয় কৃষক রেজাউল গণি মাতব্বর জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমগাছে মুকুলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এখন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় তারা প্রতিদিন বাগানে সেচ দিচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত খরা দেখা দিলে মুকুল ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এছাড়া আকস্মিক ঝড় বা পোকার আক্রমণ হলে ফলন ব্যাহত হতে পারে বলেও শঙ্কা করছেন কৃষকরা। এ পরিস্থিতিতে তারা কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

শিশু শিক্ষা একাডেমির সভাপতি সাংবাদিক খলিলুর রহমান জানান,চারদিকে আমের মুকুলের মিষ্টি গন্ধে সুবাসিত হয়ে উঠেছে মুকুলের যত্ন না নিলে আমের ভালো ফলন সম্ভব নয়। অনেকেই শখ করে আমগাছ লাগিয়েছেন, ভালো ফলনের আশায়। কিন্তু সময় মতো সামান্য যত্নের অভাবে এবং পোকা ও রোগের আক্রমণের কারণে আমাদের সেই আশা পূরণ হয় না। আমের মুকুল ও গুটি ঝড়ে যায়। অথচ সময় মতো একটু যত্ন নিলেই আমরা পেতে পারি সুস্বাদু আমের স্বাদ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন জানান, বড়লেখা উপজেলা-এ প্রায় ৪২০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। আম্রপালি, হাড়িভাঙা, বারি-৪, ফজলি, সুরমা ও স্থানীয় বিভিন্ন জাতের আম চাষ করা হলেও রাজশাহী-রংপুরের মতো বৃহৎ বাণিজ্যিক আকারে নয়; অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাড়ির আঙিনা ও ছোট পরিসরে মিশ্র চাষ হয়ে থাকে।

বর্তমানে ফাল্গুনে গাছে গাছে মুকুল এসেছে এবং অবস্থা ভালো। তবে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না থাকায় মুকুল ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি বিভাগ শুষ্ক স্থানে সেচের ব্যবস্থা, হপার পোকার দমনে কীটনাশক ও ছত্রাকজনিত রোগ প্রতিরোধে ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে। এছাড়া বোরন ও পটাশ সারের ঘাটতি পূরণ এবং গুটি ও মার্বেল অবস্থায় স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করলে ভালো ফলনের আশা করা যাচ্ছে।

ডিএস/এফআর/এসএ

Explore More Districts