খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধ/সের উচ্চ ঝুঁকিতে ৫৯০ পরিবার চিহ্নিত ৬০টির বেশি এলাকা – Chittagong News

খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধ/সের উচ্চ ঝুঁকিতে ৫৯০ পরিবার চিহ্নিত ৬০টির বেশি এলাকা – Chittagong News

টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। তালিকা অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি সদর, মহালছড়ি, পানছড়ি, রামগড়, মানিকছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় অন্তত ৫৯০টি পরিবার এবং রামগড়ের পাতাছড়া বাজারের ১৫টি দোকান পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

 

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি সদরে ৮৬টি, মহালছড়িতে ৫৬টি, পানছড়িতে ২৭টি, রামগড়ে ৫৬টি, মানিকছড়িতে ১০৫টি এবং লক্ষ্মীছড়িতে ২৬০টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি মাটিরাঙ্গা, গুইমারা ও দীঘিনালা উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাও চিহ্নিত করা হয়েছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

গোমতি ইউনিয়নের গালামনি পাড়া, বেহাদন্ত পাড়া, কলিঙ্গ পাড়া, ললিন্দ্র পাড়া, তরুণী পাড়া, তাকার মনি পাড়া, বকুল মনি পাড়া, খাদা পাড়া, ভাঙ্গামোরা পাড়া ও গড়গড়িয়া পাড়া।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর মোহাম্মদপুর বড়পাড়া, ৩ নম্বর কাজীপাড়া, ৮ নম্বর চক্রপাড়া, ভুঁইয়া পাড়া, মিস্ত্রী পাড়া, ৫ নম্বর চড়পাড়া, ২ নম্বর নবীনগর ও ৪ নম্বর আদর্শ গ্রাম।

বেলছড়ি ইউনিয়নের অযোধ্যা মোড়, বাজারপাড়া ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড তাইফা। তবলছড়ি ইউনিয়নের মোল্লা বাজার, গৌরাঙ্গ পাড়া ও মাদ্রাসা পাড়া।

মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের ধনীরাম কার্বারী পাড়া, সাপমারা, ওয়াছু, ইছাছড়া, ৩ নম্বর ওয়ার্ড কুলপাড়া এবং ১ নম্বর ওয়ার্ড হেতেন্দ্র কার্বারী পাড়া।

দীঘিনালা উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
মেরুং ইউনিয়নের রশিক নগর, অনাথ আশ্রম, বেতছড়ি, ছোট মেরুং বাজার, পূর্বকূল বাচামেরুং, চকবা ছড়া, চন্দন ছড়া, হাজাধন মনি পাড়া, ফুলচান কার্বারী পাড়া, রঞ্জন মনি কার্বারী পাড়া, উত্তর রেংকার্য্য, চংড়াছড়ি ও দক্ষিণ রেংকার্য্য।

বোয়ালখালী ইউনিয়নের কাটাবুং ছড়া, তেবাং ছড়া, নৌকা ছড়া, কামাকু ছড়া ও পেমাং ছড়া।

কবাখালী ইউনিয়নের সেনানিবাস এলাকা, তারাবুনিয়া ডলুছড়া, কৃপাপুর দজরপাড়া ও জোড়া ব্রিজ।

দীঘিনালা ইউনিয়নের বাগানপাড়া, চিনাল ছড়া, থলি পাড়া, গবিন্ধ কাং পাড়া, বানছড়া, পাবলাখালি, দীলচান কার্বারী পাড়া ও উত্তর পুকুরঘাট।

গুইমারা উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

ধনিরাম পাড়া, মালতি পাড়া, গুইমারা পাড়া, তৈইমাতাই পাড়া, কলা পাড়া, কেমেরং পাড়া, নাইক্যা পাড়া, চৌধুরী পাড়া, দেওয়ান পাড়া, তারাচান পাড়া, বাইল্লাছড়ি ১ নম্বর রাবার বাগান, নোয়াপাড়া, কুমিন্দ্র কার্বারী পাড়া, বাইরাবান পাড়া, মুসলিম পাড়া, জামদার পাড়া, থলিপাড়া, মাস্টার পাড়া, কুমুজ্যা পাড়া, দুরছড়ি, নাব্রাইপাড়া, প্রবেশ কার্বারী পাড়া, সুবলচন্দ্র পাড়া, ঠাণ্ডাছড়ি ও জগন্নাথ পাড়া।

চলতি বর্ষায় ইতোমধ্যে ধস

চলতি বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। খাগড়াছড়ি পৌরসভার সবুজবাগ ও শালবাগান এলাকায় কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘর মেরামতে সহযোগিতা করেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইঁয়া।

এ ছাড়া মহালছড়ি-জালিয়াপাড়া সড়কে পাহাড় ধসে মাটি পড়ে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের কয়েকটি স্থানেও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।

ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের উদ্বেগ

খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার শালবাগানের বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় আতঙ্কের মধ্যেই বসবাস করতে হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

একই এলাকার রহমত আলী বলেন, পাহাড়ের ওপর থেকে মাটি ধসে নিচের ঘরবাড়ির ওপর পড়ে। জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে বাড়ি করলেও এখন অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।

খাগড়াছড়ি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জসিমউদ্দীন মজুমদার বলেন, প্রশাসনের শুধু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকা করলেই হবে না। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিয়মিত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কেউ ফিরে এলে তাদের আবারও সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং বিপজ্জনক স্থানে বসবাস ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

Explore More Districts