দম বন্ধ করা ১৫ বছর
১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ কেমন ছিল, এ প্রশ্নে প্রায় সবাই একমত হয়েছিলেন। একজন সম্পাদক স্পষ্ট করে বলেছিলেন, তাঁরা প্রবল চাপের মধ্যে কাজ করেছেন। অন্য এক সম্পাদকের পর্যবেক্ষণ ছিল আরও গভীরে। তাঁর মতে, ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করাই ছিল সামরিক শাসনের পূর্বাভাস। অর্থাৎ গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের প্রক্রিয়া অভ্যুত্থানের আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল।
তবে সব সুর এক ছিল না। শীর্ষ এক দৈনিকের সম্পাদক ভিন্নমত জানিয়ে বলেছিলেন, ওই সময়ও সরকারের নীতির বিরোধিতা করে অনেক সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাই তখনকার গণমাধ্যম-পরিবেশকে পুরোপুরি খারাপ বলা ঠিক হবে না। এ ভিন্নমতটুকুও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সামরিক শাসনের সময়ও প্রতিবাদের কিছু জায়গা যে টিকে ছিল, এ তারই সাক্ষ্য।
গণমাধ্যমের ওপর চাপ প্রয়োগের প্রশ্নে অবশ্য কারও দ্বিমত ছিল না। সবাই স্বীকার করেছিলেন, সামরিক শাসনের সময় নানাভাবে চাপ এসেছে। একজন ব্যুরোপ্রধানের মূল্যায়ন ছিল, ভারত ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই এটি সাধারণ প্রবণতা।
কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছিল একজন সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতির একটি পর্যবেক্ষণ। তাঁর মতে, দমন-পীড়নের চেয়ে সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়েই সংবাদপত্রকে বেশি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সরকারি ট্রাস্টের অধীন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিকদের নিয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল নির্মম, ‘তাঁদের সাংবাদিক বলাই ঠিক নয়। সরকারি কর্মচারীদের কীভাবে সাংবাদিক বলা যায়, তা আমি বুঝতে পারি না।’
এ কথার তাৎপর্য আজও ফুরায়নি। যে সাংবাদিকের বেতন, পদোন্নতি ও ভবিষ্যৎ সরকারের হাতে, তাঁর কাছ থেকে সরকারের সমালোচনা আশা করা কঠিন। প্রশ্নটা ব্যক্তির সততার নয়, কাঠামোর।
