শুধু একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠান নয়, নগরের প্রায় সব অভিজাত হোটেলই এবারের রমজানে বিশেষ ইফতারির আয়োজন করেছে। ঝাউতলার অ্যালিট প্যালেস, টমছমব্রিজ এলাকার হোটেল ওয়েসিস, কুমিল্লা ক্লাব, রেড রুফ ইন, সিটি পয়েন্ট কিংবা ছন্দু হোটেলসহ বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় বিকেলের পর উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। কান্দিরপাড় এলাকার লাহাম কিচেন প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় ঝুরা গরুর মাংসের হালিম বিক্রি করছে।
কান্দিরপাড় এলাকার আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোজার সময় বিভিন্ন হোটেল ঘুরে নতুন খাবার খোঁজা যেন একধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে মানুষের। বিশেষ করে মাংসজাত খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। আমরাও কিনছি।’
কুমিল্লার ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ধনাঢ্য ও শিক্ষিত মানুষের শহর হওয়ায় কুমিল্লার ইফতারির ঐতিহ্য শত বছরের পুরোনো। তিন-চার দশক আগে মানুষের ইফতারিতে মূল উপাদান ছিল দই, চিড়া, খই, মুড়ি কিংবা ছোলা, পেঁয়াজু ও বেগুনি। কিন্তু মানুষের রুচির পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অবস্থার উত্তরণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে কয়েক বছর ধরে নতুন নতুন খাবার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, আগে ইফতারিতে হয়তো এত প্রাচুর্য ছিল না, কিন্তু সন্তুষ্টি ছিল। এখন বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দাপট বেড়েছে, কিন্তু সন্তুষ্টির জায়গাটি আগের মতো নেই।


