পর্যাপ্ত ঘুম না হলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়। যাঁরা রাতে ঘুমের সমস্যায় ভোগেন, তাঁরা ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগের পাশাপাশি লিভার–সংক্রান্ত সমস্যায়ও ভোগেন। পুষ্টিকর খাবারের অভাব কিংবা খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম লিভারের ক্ষতি করে থাকে। সকালে না খাওয়া বা ব্রেকফাস্ট স্কিপ করা, খারাপ তেল বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খাওয়া, পোড়া তেলের খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া, অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, জাংক ফুড খাওয়ার কারণে লিভারের ক্ষতি হয়। কেমিক্যাল–সমৃদ্ধ যেকোনো খাবারই লিভারের জন্য ক্ষতিকর। আমরা অনেকেই প্রিজারভেটিভ, আর্টিফিশিয়াল ফুড কালার, আর্টিফিশিয়াল চিনিযুক্ত খাবার খাই। বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, প্যারাসাইট, ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিকতা, বংশগত কারণ কিংবা ক্যানসারের কারণেও লিভার ড্যামেজ হতে পারে। স্থূলতা ফ্যাটি লিভারের কারণ, যা থেকে সিরোসিস হতে পারে।
লিভার নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কিছু রোগ আছে বংশগত, কিছু পরিবেশগত, কিছু রোগ স্বল্পস্থায়ী এবং কিছু দীর্ঘস্থায়ী। কয়েকটি সাধারণ সমস্যা হলো জন্ডিস, পিত্তে পাথর, হেপাটাইটিস সি, লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসার, উইলসন্স ডিজিজ, ফ্যাটি লিভার ইত্যাদি। ওজন বেশি হলে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই ওজন কমাতে হবে। ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভাস লিভারকে সুস্থ রাখে। উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট, যেমন সাদা পাউরুটি, পাস্তা ও চিনি এড়িয়ে চলতে হবে। কাঁচা ও আধা সেদ্ধ মাছ-মাংস খাওয়া বাদ দেওয়া। প্রতিদিনকার খাবারে তাজা ফল, শাকসবজি, লাল চাল ও সিরিয়াল রাখতে পারেন। তা ছাড়া রসুন, জাম্বুরা, গাজর, গ্রিন টি, অ্যাভোকাডো, আপেল, অলিভ অয়েল, লেবু, বাঁধাকপি, হলুদ লিভারের জন্য বেশ উপকারী। হাইড্রেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং বেশি করে পানি পান করতে হবে। হেপাটাইটিস রুখতে টিকা নিতে হবে।
-
অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হক, পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ, বিআইএইচএস, ঢাকা


