কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে জনসমুদ্র

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে জনসমুদ্র

স্মৃতিচারণা করে আকবর আলী বলেন, ‘শোলাকিয়া একটা আবেগ। সেই ছোটবেলায় যখন বড়দের সঙ্গে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পথ হেঁটে চলে আসতাম, এত আনন্দ লাগত যে দীর্ঘ পথ হেঁটে আসলেও ক্লান্তি লাগত না। সেই ১৪ বছর বয়স থেকে শুরু করেছিলাম। আল্লাহর ইচ্ছায় এখনো আসছি। তবে এখন আর আগের মতো হাঁটতে পারি না। আর যাতায়াতব্যবস্থা ভালো থাকায় হাঁটতেও হয় না।’

৭০ বছর বয়সী ইদ্রিস আলী। তিনিও ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দক্ষিণ বালিপাড়া থেকে শোলাকিয়ায় নামাজ পড়তে এক দিন আগেই কিশোরগঞ্জে চলে এসেছেন। ঐতিহাসিক এ মাঠে তাঁর প্রথম ঈদের নামাজ পড়া হয় পাকিস্তান আমলে। ইদ্রিস আলী বলেন, প্রথম যখন তিনি শোলাকিয়ায় এসেছিলেন, তখন তাঁর বয়স হবে আনুমানিক ১৫ বছর। সবকিছু স্পষ্ট মনে না থাকলেও এটা মনে আছে, বাড়ি থেকে বড়দের সঙ্গে শোলাকিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরে বেশির ভাগ পথই হেঁটে আসতে হয়েছিল। অল্প কিছুটা জায়গা প্যাডেলের রিকশায় এসেছিলেন। ২০ টাকা সঙ্গে নিয়ে এই আসা-যাওয়া, খাওয়া সব খরচ হয়ে যেত। এবারও তিনি এসেছেন প্রতিবেশী হাতেম আলীকে নিয়ে। হাতেম আলী প্রায় ২০ বছর ধরে শোলাকিয়া ঈদগাহ আসার তাঁর সঙ্গী।

শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতিবছর যেমন পুরোনো মুসল্লিরা সমবেত হন, তেমনি যোগ হন নতুনেরা। এবারই ঐতিহাসিক এ ঈদগাহে প্রথমবার ঈদের নামাজ পড়তে এসেছেন নরসিংদীর পলাশের বাছির উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের দুলাল মিয়া, ময়মনসিংহের তারাকান্দার রইছ উদ্দিন, লালচান, জহির উদ্দিন, মহর উদ্দিন। তাঁরা সবাই এক দিন আগে এসে চর শোলাকিয়া বাগে জান্নাত মসজিদে ওঠেন। শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে খুব খুশি তাঁরা।

Explore More Districts