কানাইপুরে আবাসিক এলাকায় রাইস মিলের ধোঁয়ায় জনজীবন বিপর্যস্থ – dailyfaridpurkantho

কানাইপুরে আবাসিক এলাকায় রাইস মিলের ধোঁয়ায় জনজীবন বিপর্যস্থ – dailyfaridpurkantho

বিশেষ প্রতিবেদক।
ফরিদপুরের কানাইপুরে আবাসিক এলাকায় দুটি রাইস মিলের কারনে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। মিলের কালো ধোঁয়ায় গোটা এলাকাজুড়ে বিষাক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মিল দুটি থেকে বের হওয়া কালো ধোয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ার কারনে বাসা বাড়ীতে রাখা খাবার পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা স্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগছে। কালো ধোয়ার ছাই বাসা বাড়ীতে ছড়িয়ে সবকিছু নষ্ট করে দিচ্ছে। এমনকি মসজিদেও নামাজ পড়তে কষ্ট হচ্ছে মুসল্লীদের। ফলে সেখানে বসবাস করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অসহনীয় পরিবেশের মধ্যদিয়ে কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। মিল দুটির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় তারা নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করেই মিল গুলো চালিয়ে আসছে। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিলেও কোন প্রতিকার মিলছেনা। তবে, কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরেজমিন পরিদর্শন করে মিল দুটি অচিরেই বন্ধ করার কথা বলেছেন।
সরেজমিন কানাইপুর ইউনিয়নের স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবাসিক এলাকা হিসাবে খ্যাত ১নং ওয়ার্ডের বিশ্বাসপাড়া ও সাহা পাড়ায় কয়েক বছর আগে ‘বর্ষা অটো রাইস মিল’ ও ‘আকাশ অটো রাইস মিল’ স্থাপন করা হয়। শুরুতেই আবাসিক এলাকায় মিল না করার জন্য স্থানীয়রা বাঁধা প্রদান করে। প্রভাবশালী মহলটি সেই বাঁধা উপেক্ষা করেই পরিবেশের ছাড়পত্র ও ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি না নিয়েই পাশাপাশি মিল দুটি স্থাপন ও চালু করে। মিল দুটি চালুর পর থেকেই স্থানীয়রা বেশ অসুবিধার মধ্যে দিনযাপন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিল দুটির কালো ধোঁয়া এবং ছাই গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ নুরুল ইসলাম, রোকনউদ্দিন বিশ্বাস, রাজ্জাক বিশ্বাস, পাচু ডাক্তার, কৃষ্ণসাহা জানান, কালো ধোঁয়া এবং ছাইয়ের কারনে তারা এখন মারাত্বক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। মিলের কালো ছাই বাসা বাড়ীর আসবাবপত্র, জামা-কাপড় সমস্ত কিছু নষ্ট করে দিচ্ছে। ঘরের মালামাল এমনকি খাবার পর্যন্ত নষ্ট হচ্ছে। দিনে একাধিক বার ঘর ঝাড়– দিয়েও ছাই সরানো সরানো যাচ্ছেনা। কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারনে চোখ জ্বালাপোড়া করে। শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট রোগে ভূগছে। পুকুরের মাছ মরে যাচ্ছে, গাছের ফল নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া মিলের প্রচন্ড শব্দে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা মারাত্বক ভাবে বিঘœ ঘটছে। স্থানীয় মসজিদের ইমাম রুহুল আমিন জানান, মিল থেকে আসা ছাইয়ের কারনে নামাজ পড়া কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। সবসময় মসজিদ ঝাড়– দিয়ে রাখলেও পর মুহুর্তে ছাই পড়ে মসজিদের ফ্লোর ও কার্পেটসহ বিভিন্ন জিনিষ নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় মুসল্লী বেশী হওয়ায় মসজিদের বাইরে নামাজ পড়তে বেশ অসুবিধা হয়। নামাজে দাঁড়ালে ছাই গায়ে এসে পড়ে। তারা জানান, মিলের ছাই কুমার নদে পড়ায় তারা সেই নদের পানিতে গোসল পর্যন্ত করতে পারেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ১নং ওয়ার্ডে প্রায় ৫শ শতাধিক পরিবার বসবাস করে। এ ওয়ার্ডে বাজার, কিন্ডার গার্টেন স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে অবর্ননীয় দূর্ভোগের মধ্যে বসবাস করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানালেও তেমন কোন প্রতিকার পাননি। দিনকে দিন এমন পরিস্থিতি থাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। অভিযোগ আছে, গত কয়েক মাস আগে মিল দুটি বন্ধে আদালতে মামলা করেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। মামলা করার কারনে সেই ব্যক্তিকে মিল কতৃপক্ষের লোকজন মারপিট করে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিক্তিতে গত শনিবার কোতয়ালী থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে পড়েন। মিল দুটি আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে অন্যত্র নেবার কথা জানান তারা।
কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোঃ আলতাফ হুসাইন জানান, মিল দুটির বিষয়ে স্থানীয়দের বিস্তর আপত্তি রয়েছে। মিল থেকে কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারনে পরিবেশ মারাত্বক ভাবে নষ্ট হচ্ছে। এখানে কেউ না আসলে বিশ্বাস করা কষ্টকর এই ওয়ার্ডের মানুষ কতটা খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, মালিক পক্ষকে বলে দেওয়া হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে মিল দুটি অন্যত্র সরিয়ে নেবার জন্য। যদি তা না করা হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশ অটো রাইস মিলের মালিক বিশ্বনাথ সাহা বলেন, আমার মিল থেকে পরিবেশ দূষন হচ্ছে না। আমার ভাইয়ের মিল থেকে দূষন হচ্ছে। আকাশ অটো রাইস মিলের মালিক বিপ্লব সাহার সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ সাঈদ আনোয়ার বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমি যোগদানের আগে একটি মিলের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সেটি আর নবায়ন করা হয়নি। অপরটির কোন ছাড়পত্র নেই। মিল থেকে পরিবেশ দূষনের বিষয়ে আদালতে মামলা থাকায় আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছিনা। তবে, মিল থেকে পরিবেশ দূষন যাতে না হয় সেই ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Explore More Districts