
ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশে তারা অপরাধী ও পলাতক হিসেবে চিহ্নিত এবং তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ থেকে শুরু করে অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ সীমান্তের ওপারে কলকাতার শপিং মলের জনাকীর্ণ ফুড কোর্টে বসে কফি ও ফাস্ট ফুড খেতে খেতে আওয়ামী লীগের এই নির্বাসিত নেতারা রাজনীতিতে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
প্রায় ১৬ মাস আগে এক তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানল থেকে বাঁচতে তিনি হেলিকপ্টারে করে ভারতে পাড়ি জমান।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে জুলাই মাসের সেই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের দমনপীড়নে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এরপর তার দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী পালিয়ে যান এবং অনেকে ফৌজদারি মামলার আসামি হন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের ছয় শতাধিক নেতাকর্মী কলকাতায় আশ্রয় নিয়ে আত্মগোপনে আছেন এবং সেখান থেকেই দলের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছেন।
গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার জনমতের চাপে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে এবং শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনেও দলটির অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও তিনি এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ভারত থেকে নিজের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করছেন।
দিল্লির এক গোপন আস্তানা থেকে শেখ হাসিনা নিয়মিত বাংলাদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ভারত সরকারের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থেকেও তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকি করছেন।
ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা নিয়মিত কলকাতা থেকে দিল্লি গিয়ে নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। সাদ্দাম হোসেন জানান যে শেখ হাসিনা দিনে দীর্ঘ সময় ধরে ফোনালাপ ও বৈঠকে ব্যস্ত থাকেন এবং তিনি দেশে ফেরার বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে আগামী নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু।
তবে আওয়ামী লীগ দাবি করছে যে তাদের বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন গণতান্ত্রিক হতে পারে না। দলের নেতারা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার অভিযোগও তুলেছেন। সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর কবির নানক কর্মীদের নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটত। তবে বর্তমান সরকারের আমলেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতারা অবশ্য এসব অভিযোগ মানতে নারাজ। সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় ছাড়া খুব কম নেতাই অতীতের ভুল স্বীকার করছেন। জয় স্বীকার করেছেন যে তারা পুরোপুরি গণতান্ত্রিক ছিলেন না এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে ত্রুটি ছিল। তবে তিনিও আশা প্রকাশ করেন যে এই নির্বাসিত জীবন দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে।
এনএন/ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬




