ওসমানী বিমানবন্দর প্রকল্পে ‘লোপাট’ ২১২ কোটি টাকা, কাজের তেমন অগ্রগতি নেই

ওসমানী বিমানবন্দর প্রকল্পে ‘লোপাট’ ২১২ কোটি টাকা, কাজের তেমন অগ্রগতি নেই

ওসমানী বিমানবন্দর প্রকল্পে ‘লোপাট’ ২১২ কোটি টাকা, কাজের তেমন অগ্রগতি নেইসিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আধুনিক আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ২০২০ সালে শুরু হওয়া মেগা প্রকল্পটি এখন দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। নির্ধারিত সময় বহু আগেই পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি, অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। অথচ কাজ না করেই ২১২ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, বিমান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মো. মুহিবুল হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করেছে। মামলাটি দায়ের করা হয় ২৭ জানুয়ারি ২০২৫।
শুধু সিলেট নয়, শাহজালাল ও কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগেও আরও চারটি মামলা হয়েছে।

 

প্রকল্পটি অনুমোদন পায় ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ২,৩০৯ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ছিল দুই বছর। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৭৮০ কোটি টাকা এবং মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও প্রায় ২২ শতাংশ অগ্রগতির পর নকশায় গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাড়লে নির্মিত টার্মিনাল ভবন ভাঙতে হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন। ফলে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে নকশা সংশোধন করা হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ২০ লাখ যাত্রী বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে যাত্রী সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। তবে কাজের ধীরগতিতে বর্ধিত সময়েও প্রকল্প শেষ হবে কি না—তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, “প্রতিবারই উন্নয়নের নামে বাজেট বাড়ে, কিন্তু কাজ শেষ হয় না।”
অনেকে বলছেন, “সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, কিন্তু দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।”
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

উন্নয়ন পরিকল্পনায় যা ছিলো:

উন্নয়ন পরিকল্পনায় ছিলো বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) আওতায় করা হবে বিমানবন্দরের ভূমি উন্নয়ন কাজ। নির্মাণ করা হবে ৩৪ হাজার ৯১৯ বর্গমিটারের আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন। এ টার্মিনালে ৮টি বিমান একসঙ্গে যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে।

এর বাইরে ৬ হাজার ৮৯২ বর্গমিটারের কার্গো ভবন, ২ হাজার ৪১৫ বর্গমিটারের ফায়ার স্টেশন, ২ হাজার ৭৭২ বর্গমিটারের কন্ট্রোল টাওয়ার, ১ হাজার ৩৯৫ বর্গমিটারের প্রশাসনিক ভবন, ৬০৬ বর্গমিটারের মেইনটেনেন্স ভবন, ২ হাজার ৫২৪ বর্গমিটারের ইউটিলিটি ভবন এবং ৯ হাজার ২৯৯ বর্গমিটারের মধ্যে আবাসিক ভবন, আনসার ব্যারাক, স্কুল স্থানান্তর, রেস্ট হাউস ও ডরমেটরি নির্মাণ করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আধুনিক রূপ দিতে অ্যাপ্রোন, ট্যাক্সিওয়ে ও শোল্ডার, রাস্তা, কার পার্কিং ও ফুটপাথ নির্মাণ করা হবে। নির্মাণ করা হবে ড্রেনেজ সিস্টেম, পানি সরবরাহ ও স্যুয়ারেজ সিস্টেম।

ডিএস/এমসি

Explore More Districts