ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ, মুক্তিপণের দাবিতে ফোন

ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ, মুক্তিপণের দাবিতে ফোন

ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ, মুক্তিপণের দাবিতে ফোনসিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আবাসিক কোয়ার্টার থেকে পাঁচ দিন ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন (২৬)। দায়িত্বশীল একটি নিরাপত্তা পদে কর্মরত এই কর্মকর্তার হদিস না মেলায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে পরিবার, সহকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। এরই মধ্যে তার সন্ধান দেওয়ার কথা বলে পরিবারের কাছে একাধিকবার ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করছে প্রতারক চক্র, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

জানা গেছে, গত ৮ জুলাই ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার কোয়ার্টার থেকে নিখোঁজ হন আরিফুল্লাহ জেলিন। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে জেলিনকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে একের পর এক ফোন করে অর্থ দাবি করছে বিভিন্ন প্রতারক চক্র।

এ ঘটনায় আরিফুল্লাহ জেলিনের সহকর্মী ধনঞ্জয় কুণ্ডু সিলেট বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই অর্জুন চৌধুরী জানান, ছুটি শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরে এলেও জেলিন আর অফিসে যোগ দেননি। ওসমানী বিমানবন্দর এলাকার আবাসিক কোয়ার্টারেই তার সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশ সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমিন জানান, গত ৭ এপ্রিল তার ছেলে ঢাকায় নতুন চাকরিতে যোগ দেন। পরে তাকে সিলেটে বদলি করা হয়। সিলেটে যোগদানের পর কাজের অতিরিক্ত চাপ ও পরিশ্রমের কথা ছেলে প্রায়ই ফোনে জানাত। ছেলের অনুরোধে তিনি গত ১৩ এপ্রিল সিলেটে এসে কয়েকদিন ছেলের সঙ্গে থেকে ১৫ এপ্রিল গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। ছুটি শেষে গত ৭ জুলাই জেলিন আবার সিলেটে কর্মস্থলে ফেরেন।

তিনি আরও জানান, ৮ জুলাই সকালে ছেলেকে ফোন করলে রুমমেটরা জানান, জেলিন ঘুমিয়ে আছেন। পরে বেলা ১১টার দিকে আবার ফোন করলে তারা জানান, জেলিন কক্ষে নেই, হয়তো ছাদে গেছেন। কিন্তু এরপর ছাদসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

ফরিদা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, ছেলের নিখোঁজ হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্র তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। প্রথমে ছেলের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় একটি চক্র। পরে আরেকটি নম্বর থেকে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও ছেলের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে না পারায় তিনি আর টাকা দেননি।

এরপর সিরাজগঞ্জ থানার একজন এসআই পরিচয়ে অপর একজন ফোন করে জেলিনের রক্তের গ্রুপসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চান এবং দ্রুত ৫ হাজার টাকা পাঠানোর অনুরোধ করেন। পরে খোঁজ নিয়ে পরিবার নিশ্চিত হয়, সেটিও ছিল প্রতারকদের আরেকটি কৌশল এবং পুরো ঘটনাই ছিল ভুয়া।

পরিবার জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত আরিফুল্লাহ জেলিনের কোনো সন্ধান মেলেনি। তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে স্বজনরা। অন্যদিকে, পুলিশ নিখোঁজের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং তাকে দ্রুত উদ্ধারে তদন্ত ও অনুসন্ধান জোরদার করেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনদের প্রতারক চক্রের ফোনকল বা অর্থ দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

ডিএস/এমসি

Explore More Districts