সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ভুয়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিথা গ্রামের মো. রতন মিয়ার ছেলে মো. মানোয়ার হোসেন এবং বাথুলী গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মো. আরশেদ আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানোয়ার, আরশেদ ও জিয়াউল নামের তিন ব্যক্তি নিজেদের ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের লোক পরিচয় দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও ভেকু পরিচালনার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা বলে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সোনাতলা গ্রামে আসে। এ সময় তারা এসিল্যান্ডের সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে এবং নিজেদের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দেয়।
প্রতারক চক্রের সদস্য জিয়াউল স্থানীয় ভেকু ব্যবসায়ী চান মিয়াকে ফোন করে জানায়, ধামরাইয়ের এসিল্যান্ড এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। অবৈধ ভেকু দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগে একটি ভেকু জব্দ করা হয়েছে এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে চান মিয়া জরিমানার এক লাখ টাকা তাদের কাছে পরিশোধ করেন এবং বাকি এক লাখ টাকা সকালে দেওয়ার কথা বলেন।
এরপর প্রতারকরা স্থানীয় আরেক ভেকু ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেনকে ফোন করে একইভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা জানায়। এ সময় চান মিয়া জরিমানার টাকার রশিদ চাইলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজনকে ডেকে তাদের পরিচয় যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। পরে তাদের আটক করে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে জিয়াউল কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়রা মানোয়ার ও আরশেদ আলীকে আটকে রাখে। পরে সদর থানার একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গ্রেফতার করে এবং জরিমানার নামে হাতিয়ে নেওয়া এক লাখ টাকা উদ্ধার করে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মানোয়ার ও আরশেদ আলী জানান, জিয়াউল নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে তারা ধামরাইয়ের এসিল্যান্ডের গাড়ি ব্যবহার করে এই টাকা নিতে এসেছিলেন। তাদের দাবি, জিয়াউল উপজেলা প্রশাসনের একজন গাড়িচালক।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ভুয়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে বিষয়টি জানতে ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিদওয়ান আহমেদ রাফির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
