উপকূলে চায়ের আড্ডায় জমে উঠেছে ভোটের আলাপ

উপকূলে চায়ের আড্ডায় জমে উঠেছে ভোটের আলাপ

উপকূলে চায়ের আড্ডায় জমে উঠেছে ভোটের আলাপ

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার উপকূলীয় বিভন্ন এলাকায় চায়ের দোকানে গেলেই দেখা যায় লোকসমাগম, আড্ডা আর নানা বয়সি মানুষের আসা-যাওয়া। দুপুরের দিকে জমজমাট আড্ডা। স্বভাবিকভাবেই প্রধান আলোচনায় নির্বাচন। দীর্ঘদিন পর নির্বাচনি আমেজ ফিরে আসায় কেউ সন্তুষ্ট, আবার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিবেশ শান্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় আর উৎকন্ঠা। আবার কারো কারো জিজ্ঞাসা, নির্বাচন হবে তো?  তবে, গণভোট নিয়ে ধারণা অস্পষ্ট তাদের। প্রচার চললেও গণভোটের বিষয়বস্তু ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না গ্রামের মানুষগুলো। প্রার্থীদের কেউ কেউ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানালেও কী বিষয়ে এই ভোট, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই গ্রামের মানুষের।

বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার চায়ের স্টলগুলোতে জমে উঠছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। এবারের নির্বাচনে কোন প্রার্থী জিততে পারে, কে কতটা যোগ্য ও ভালো, কার অবস্থান কতটা শক্ত- এসব নিয়েই চলছে আলোচনা।

স্থানীয় বাসিন্দা, দোকানদার, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে মতামত দিচ্ছেন আসন্ন নির্বাচন নিয়ে। কেউ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা বলছেন, কেউ আবার পরিবর্তনের আশায় নতুন মুখের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন।

জনতা বাজারের একটি চায়ের দোকানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে এমনই আলোচনা শোনা যায়। রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে এবারের নির্বাচনে ছয় দলের প্রার্থী ছাড়াও তিন জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি, জেএসডি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়েনি।

উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের জনতা বাজার চায়ের দোকানের আড্ডায় ছিলেন কিছু ব্যক্তি। তাদের একজন মো. জমির আলী (৫০) ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালান। আগের নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে গিয়ে কী পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন। তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একবার তো রাতের আঁধারে ভোট হয়ে গিয়েছিল। সকালে কেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে পারিনি। গতবারও (২০২৪-এর ৭জানুয়ারি) ভোট দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু একটি দলের লোকজন বলে, এক শর্তে ভোট দিতে পারবেন, প্রকাশ্যে সিল মারতে হবে। তাই আর ভোট দিইনি। তবে এবার পরিস্থিতি বদলেছে বলে মনে করেন আসমত আলী। এতে সায় দেন আড্ডায় থাকা অন্যরাও। তাদের একজন তরকারি ব্যবসায়ী মো. নোমান বলেন, এবার মনে হচ্ছে ভোট সুষ্ঠু ও অবাধ হবে। অনেক দিন পর ভোটের পরিবেশ ফিরেছে। কারো জোরজবরদস্তি নয়, এবার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান তিনি।

ষাট উর্ধ্ব বয়সি জামাল মিয়া বলেন, একেকজনের একেক প্রার্থী পছন্দ। তবে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে চান তারা। এবার মনে হয় সে সুযোগ এসেছে। তবে নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তারা বলেন, প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর থেকে রামগতির নির্বাচনি পরিবেশ শান্ত। প্রার্থীদের সমর্থকেরাও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সৌহার্দ বজায় রেখে চলছেন সবাই। এতে ভোট শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদী তারা। তবে শেষ মুহূর্তে পরিবেশ কেমন থাকে, তা নিয়ে সংশয়ও আছে তাদের।

উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নের চর আফজল গ্রামের আজাদ মেমোরিয়াল এলাকার কয়েক জন ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভোটার হিসেবে তাদের চাওয়া তেমন বেশি কিছু না। যিনি জয়লাভ করবেন তার কাছে প্রত্যাশা, রামগতি উপজেলার লঞ্চঘাট, মাছঘাট, বাস, টেম্পু স্ট্যান্ড এবং চরাঞ্চল যেন চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত করে। এছাড়া লোকালয়ের বসতি এলাকায় পরিবেশ দূষণকারী অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটা বন্ধ চান তারা।

ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা কাজ করবে না বলে মনে করেন নতুন ভোটাররা। আগামী সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা, এলাকার মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। মানুষ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন, সেজন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে।

Explore More Districts