পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চাঁদপুরের একমাত্র জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বড় স্টেশন এলাকা ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এখান থেকে বহুল আলোচিত ‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত চাঁদপুর মোহনা এলাকায় প্রতিদিন চলছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
মোহনা স্টিল বডি সমিতি লিমিটেড এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অর্ধ শতাধিক স্টিল বডির নৌযান প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে যাত্রী পরিবহন করছে। ঈদের দিন থেকে শুরু হয়ে টানা ৭ দিন এই বিশেষ সেবা চালু থাকায় চাঁদপুর শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসছেন এই অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে।
পদ্মা-মেঘনার মিলনস্থল এই মোহনায় পৌঁছাতে প্রতিজন যাত্রীকে গুনতে হচ্ছে মাত্র ১০০ টাকা। সকাল ১০টা থেকে যাত্রা শুরু হয়ে এই টাকার বিনিময়েই পর্যটকরা বিকাল ৫টা পর্যন্ত ইচ্ছামতো সময় কাটিয়ে পুনরায় বড় স্টেশনে ফিরে আসার সুযোগ পাচ্ছেন, যা ভ্রমণকে করেছে আরও সাশ্রয়ী ও আকর্ষণীয়। অর্ধ শতাধিক অভিজ্ঞ মাঝির দক্ষ পরিচালনায় যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া এবং সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মোহনায় গিয়ে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর পুরো এলাকা। নদীর বুকে বালুচরে গড়ে ওঠা ‘মিনি কক্সবাজারে কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়।
শিশুদের খেলাধুলা, তরুণদের ছবি তোলা আর প্রবীণদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে এক অপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে এখানে।
মোহনা স্টিল বডি সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আব্দুর রহিম ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন জানান
পর্যটকদের সুবিধার্থে ‘মিনি কক্সবাজার’ এলাকায় তাদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রাখা হয়েছে নামাজ আদায়ের জন্য নির্ধারিত স্থান, পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম, আরামদায়ক বসার জন্য চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসনব্যবস্থা এবং বিশ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় নানা সুবিধা। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করলেও কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না দর্শনার্থীদের।
এছাড়াও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌযানে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারিও রয়েছে জোরদার।
দর্শনার্থীদের ভাষ্য, স্বল্প খরচে এমন মনোরম পরিবেশে ঘোরার সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়। অনেকেই এটিকে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, ঈদুল ফিতরের এই বিশেষ আয়োজনে চাঁদপুরের ‘মিনি কক্সবাজার’ এখন পরিণত হয়েছে আনন্দ, ভ্রমণ ও উৎসবের এক মিলনমেলায়, যেখানে প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন গল্প, নতুন নতুন স্মৃতি।
প্রতিবেদক: সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী,
২২ মার্চ ২০২৬

