শিক্ষাদীক্ষায় আমাদের দেশের শহুরে অনেক শিশু বেড়ে উঠছে; কিন্তু নিজ দেশের গ্রামীণ জীবন সম্পর্কে তারা ভালোভাবে জানে না। একেবারে কেউ জানে না বলা ঠিক হবে না। জানলেও সংখ্যাটা নগণ্য। শহরে যারা বেড়ে উঠছে, তাদের অনেকেই গ্রামে গেলেও গ্রামের সঙ্গে তাদের প্রাণের যোগ থাকে না। ফলে বাবা-মায়েদের সঙ্গে গ্রামে গিয়ে তারা দিন হিসাব করে, কবে ফিরবে শহরে। হওয়ার কথা ছিল সন্তানেরা ছুটির অপেক্ষা করবে কবে গ্রামে যাওয়া যায় তার জন্য। তা না হয়ে উল্টো হয়েছে। অথচ গ্রাম বিচিত্র সৌন্দর্যে ভরপুর। সীমাহীন শেখার অনন্য ক্ষেত্র একচিলতে গ্রাম। গ্রামে সবটাই যেন শহরের বাচ্চাদের জন্য জীবনমুখী বাস্তব শিক্ষালয়।
শীতকালীন, গ্রীষ্মকালীন ছুটি কিংবা বার্ষিক পরীক্ষা শেষে যে ছুটি পাওয়া যায়, সেই ছুটির সঙ্গে বাবা-মায়েরা ছুটি পান না। ফলে এই সময়ে ছুটি থাকলেও তারা বাড়িতে যেতে পারে না। মূলত শিশু-কিশোরদের ছুটি আর মা–বাবার ছুটি একসঙ্গে মেলে দুই ঈদে।
প্রতিবছর দুই ঈদে আমাদের যে শিশুরা শহর থেকে গ্রামে যায়, গ্রামের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব গড়ে তোলা খুব জরুরি। গ্রামের সঙ্গে বন্ধুত্ব মানে গ্রামের মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা। গ্রামের মানুষ মানে কেবল নিজ পরিবারের সদস্য নয়; প্রতিবেশী, নিকট-দূরের আত্মীয়, যারা গ্রামে বাস করে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করানো। গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া।
এ বছর যে সময়ে ঈদুল ফিতরের ছুটি, সে সময়ে গ্রামে অনেক স্থানে গ্রাম্য মেলা বসবে। এসব মেলায় সন্তানদের নিয়ে যেতে পারেন মা–বাবা। মার্চ মাস পুকুরে-নদীতে পানি খুব কম থাকে। এই কম পানিতে বাচ্চাদের ঈদের ছুটিতে সাঁতার শেখানো অত্যন্ত জরুরি। গ্রামের শিশুরা সারা দিন পানিতে খেলতে খেলতে সাঁতার শেখে। শহরের বাচ্চাদের সেই সুযোগ নেই। ঈদের ছুটি বাচ্চাদের সাঁতার শেখানোর অনন্য সময়।
মার্চ মাসে গাছ রোপণ করা সম্ভব। ঈদের ছুটিতে বাচ্চাদের গ্রামে নিজেদের বাড়িতে, পাশের বাড়িতে, আত্মীয়ের বাড়িতে কিংবা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে নিজ হাতে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করুন। যে কদিন বাড়িতে থাকবে, পারলে নিয়মিত এসব গাছে পানি দেবে। মাত্র কয়েক দিন পানি দিলেই চলবে। বর্ষা এলে আর পানি দিতে হবে না। গাছগুলো বর্ষায় বেড়ে উঠবে। গ্রামে নিজ হাতে রোপণ করা কয়েকটি গাছ বড় হলে সেই গাছকে কেন্দ্র করে গ্রামের সঙ্গে একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। বৃক্ষরোপণের প্রথামিক অভিজ্ঞতা এখানেই হোক।


