
ব্রাসিলিয়া, ১৫ জুলাই – আন্তর্জাতিক বয়কট এবং বিশ্বজুড়ে চলমান আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালে ইসরায়েলে ব্রাজিলের সরাসরি অপরিশোধিত তেল রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ব্রাজিলের ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম এজেন্সির (এএনপি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলবিরোধী বিডিএস (বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাঙ্কশনস) আন্দোলন বিষয়টিকে তাদের দীর্ঘদিনের প্রচারণার বড় জয় হিসেবে দেখছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সরাসরি তেল রফতানি বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কমানোর ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত অগ্রগতির লক্ষণ।
এটি প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক সংগঠনের সম্মিলিত চাপ সরকারকে তার আন্তর্জাতিক মানবিক বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলতে বাধ্য করতে পারে। জ্বালানি বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘অয়েল চেঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল’ এর তথ্যানুযায়ী ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ব্রাজিল ছিল ইসরায়েলের পঞ্চম বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ যা দেশটির মোট আমদানির প্রায় ৯ শতাংশ পূরণ করত।
তবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে নাৎসিদের ইহুদি নিধনের সঙ্গে তুলনা করে গণহত্যার অভিযোগ তোলার পর দুই দেশের সম্পর্কে চরম কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। সেই উত্তেজনার জেরে ইসরায়েল লুলা দা সিলভাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।
রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মাঝেই ব্রাজিলের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাস বারবার দাবি করেছিল যে তারা ইসরায়েলে সরাসরি কোনো তেলের চালান পাঠায়নি। তাদের দাবি ছিল আন্তর্জাতিক শোধনাগারগুলোর কাছে তেল বিক্রির পর এর গন্তব্যের ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
উল্লেখ্য ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রাজিল আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যা মামলাকে সমর্থন করে এবং তেল আবিব থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়। বিডিএস আন্দোলন জানিয়েছে সরাসরি রফতানি বন্ধ হলেও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তেল সরবরাহ বন্ধ করতে তাদের চাপ অব্যাহত থাকবে।
এস এম/ ১৫ জুলাই ২০২৬



