ভুতুড়ে দৃশ্য
এই মিথ্যাগুলোর উদ্দেশ্য একই: ইরানে আক্রমণের বৈধতা দেওয়া; এ অঞ্চলের ওপর ইসরায়েলের ছড়ি ঘোরানোর অধিকার সুরক্ষিত রাখা। আগে করা হতো নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে, এখন করা হচ্ছে বোমা হামলার মাধ্যমে।
ইরান এখন হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপর থেকে তার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তারা দাবি করছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল পরিচালিত এই ভুতুড়ে দৃশ্যে মার্কিন সমর্থন বন্ধ করতে হবে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিকতম জেদ হচ্ছে, বেশির ভাগ আরব রাষ্ট্রকে ইসরায়েলের সঙ্গে তথাকথিত ‘আব্রাহাম চুক্তি’ স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা। এটাকে আঞ্চলিক ‘শান্তিচুক্তি’র রূপরেখা হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত।
মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ ক্ষমতাধর হিসেবে ইসরায়েলের অবস্থানকে পাকাপোক্ত এবং আরব রাষ্ট্রের স্বার্থগুলোক ইসরায়েলের অধীন করতেই এই চুক্তির নকশা করা হয়েছে। এটা ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’–এর মতো আরেকটি প্রতারণা, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অপরাধমূলক আগ্রাসন ও গণহত্যাকে শান্তির মোড়কে হাজির করে।
গত ২০ বছরের নির্জলা মিথ্যাসমূহ একটা সহজ সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে: তেহরান কোনো অপ্রকৃতিস্থ, গণহত্যাকারী ও ক্ষমতালোভী উন্মাদ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে না, বরং তেল আবিব ও ওয়াশিংটন হচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে তেহরান সংযম দেখিয়ে যাচ্ছে, সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে এবং আন্তরিকভাবে আলোচনার সদিচ্ছা প্রদর্শন করছে। কিন্তু অন্যপক্ষে কোনো দায়িত্বশীল মানুষ নেই, যাঁদের সঙ্গে তারা কোনো চুক্তি করতে পারে।
জোনাথন কুক সাংবাদিক, ইসরায়েল-ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ।
মিডল ইস্ট আই থেকে অনূদিত।


