
আবুধাবি, ২৭ জানুয়ারি – মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, তারা নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা চালাতে দেবে না। ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই সোমবার আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই অবস্থান জানানো হয়।
এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন একটি ‘নৌবহর’ উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর ইরানের পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন কড়া নজর রাখছে।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের আকাশসীমা, স্থলভূমি কিংবা জলসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের অঙ্গীকার আবারও স্পষ্ট করেছে।
আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির কাছের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে বর্তমানে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব সামরিক স্থাপনা রয়েছে, তার মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানে কোনো হামলার ক্ষেত্রে লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না আমিরাত। বর্তমান সংকট সমাধানে সংলাপ, উত্তেজনা কমানো, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সম্মান করাই সবচেয়ে ভালো পথ—এ কথাও জানিয়েছে দেশটি।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুত ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে এই বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয়। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এসব বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ধর্মীয় নেতৃত্ব নজিরবিহীন এই বিক্ষোভ দমনের পরও এখন পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে আছে। দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বিরোধিতাকারীদের অনেকেই এখনও পরিবর্তনের সবচেয়ে সম্ভাব্য উপায় হিসেবে বাইরের হস্তক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি এখনো একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।
এনএন/ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬



