
তেহরান, ২০ জানুয়ারি – ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নাগরিকদের জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষ তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের সময়সীমা দিয়েছে। ইরানের জাতীয় পুলিশের প্রধান জানিয়েছেন, যারা ‘‘প্রতারিত হয়ে’’ দাঙ্গায় অংশ নিয়েছেন, তারা যদি তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করেন, তাদের শাস্তির ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হবে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে সোমবার বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লোকজনকে পুলিশ আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আত্মসমর্পণকারী প্রার্থীরা লঘুদণ্ড পাবেন।
পুলিশ প্রধান আহমাদ-রেজা রাদান জানিয়েছেন, যারা তরুণরা অজান্তেই দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়েছেন, তারা শত্রুপক্ষের সেনা নয়, বরং প্রতারিত মানুষ। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থার অধীনে তাদের প্রতি সহনশীল আচরণ করা হবে এবং তাদের আত্মসমর্পণের জন্য সর্বোচ্চ তিনদিন সময় দেওয়া হচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা দ্রুত বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশটিতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভকে গত কয়েক বছরে ইরানি নেতৃত্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সহিংস দমন-পীড়নের পর বিক্ষোভ বর্তমানে স্তিমিত হয়ে পড়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ-সহিংসতায় অন্তত ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছে, প্রথমে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে তা দাঙ্গায় রূপ নেয়। তারা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো ইরানের প্রধান শত্রুর উসকানিতে এই দাঙ্গা পরিচালিত হয়েছে ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, গত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভের ঘটনায় প্রায় ৩ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।
এর আগে, গত শনিবার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, কর্তৃপক্ষকে ফিতনাবাজদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে হবে এবং দেশি-বিদেশি অপরাধীরা কোনোভাবেই শাস্তি এড়াতে পারবে না।
এনএন/ ২০ জানুয়ারি ২০২৬



