
তেল আবিব, ১১ জানুয়ারি – ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বা রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে—এমন আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একাধিকবার ইরানের শাসকদের সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। গত শনিবার তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সহায়তা করতে প্রস্তুত’ রয়েছে।
ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তে দেশটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ বলতে ঠিক কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের তীব্র সংঘাত হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে থেকে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। ওই সংঘাতের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই পরিস্থিতিতে গত শনিবার এক ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
তবে ইসরায়েল প্রকাশ্যে এখনো ইরানে সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়নি। দেশটি মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
এদিকে গত শুক্রবার দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়, তবে তার ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাকি সব বিষয়ের ক্ষেত্রে আমাদের দেখতে হবে, ইরানের ভেতরে বাস্তবে কী ঘটছে।’
এনএন/ ১১ জানুয়ারি ২০২৬




