
তেহরান, ১৮ জানুয়ারি – ইরানজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে যে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী এই ষড়যন্ত্র আগেরগুলোর চেয়ে আলাদা ছিল, কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি শক্তির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষ দেশজুড়ে ব্যাপক রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলো বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানজুড়ে চলা এই বিক্ষোভে বিদেশি শক্তিরাই উসকানি দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইরানের কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই দেশজুড়ে চলা অস্থিরতার পেছনে বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে আসছে। তেহরানের দাবি, দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়াতে উসকানি দিয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিল।
খামেনি সতর্ক করে বলেন, ইরান সীমান্তের বাইরে সংঘাত ছড়িয়ে দেবে না। তবে যাদের এই ঘটনার জন্য দায়ী মনে করা হচ্ছে, তারা কোনোভাবেই পরিণতি এড়াতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে যুদ্ধে জড়াব না, কিন্তু দেশীয় বা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
শনিবার ধর্মীয় এক উৎসবে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে দায়ী মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, এটি একটি মার্কিন ষড়যন্ত্র। খামেনির ভাষায়, আমেরিকার লক্ষ্য হলো ইরানকে গ্রাস করা এবং আবারও দেশটিকে মার্কিন সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের অধীনে নিয়ে যাওয়া।
এনএন/ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬



