
ওয়াশিংটন, ২৫ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত সামনে এসেছে। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ এর প্রতিবেদন অনুসারে, এই শান্তি পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব হ্রাস করা। শান্তি প্রস্তাবে ইরানের জন্য বেশ কয়েকটি কঠিন শর্ত রাখা হয়েছে।
প্রথমত, ইরানের নাতাঞ্জ, ইসফাহান এবং ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা পুরোপুরি বন্ধ করে ধ্বংস করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ এর পূর্ণ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় প্রক্সি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। চতুর্থত, ইরানের বর্তমান পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে।
পঞ্চমত, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করতে হবে। ষষ্ঠত, ইরানের ভূখণ্ডে কোনো পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করা যাবে না এবং বর্তমানে থাকা সব সমৃদ্ধ উপাদান আইএইএ এর কাছে হস্তান্তর করতে হবে। সপ্তমত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সব সময়ের জন্য উন্মুক্ত রেখে একে মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
অষ্টমত, আত্মরক্ষার জন্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে, যার বিষয়ে ভবিষ্যতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। ইরান এসব শর্ত মেনে নিলে বিনিময়ে বেশ কিছু সুবিধা পাবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বুশেহর শহরে একটি বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্প গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করবে।
এছাড়া, ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা চলাকালীন এক মাসের জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এ এম/ ২৫ মার্চ ২০২৬




