ইঞ্জিন সংকটের কারণে গতকাল চট্টগ্রামের প্রায় সব ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। ট্রেন ছাড়তে এক ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হওয়ার কারণে স্টেশনে হাজার হাজার যাত্রী সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া একাধিক ট্রেনের সিডিউল বিলম্ব হওয়ার কারণে স্টেশনে বসে থাকতে হয়েছে যাত্রীদের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।
ট্রেনের সিডিউল বির্পযয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে সোনার বাংলা, বিজয় এক্সপ্রেস এবং সাগরিকার একাধিক যাত্রী চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে গতকাল আজাদীকে ফোন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ২ ঘণ্টার বেশি বিলম্ব হয়েছে কক্সবাজারগামী প্রতিটি ট্রেন। সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের যাত্রী জাহেদুল ইসলাম ও শোভন জানান, আমরা ট্রেন ছাড়ার প্রায় আধ ঘন্টা আগে স্টেশনে এসেছি। এখন প্রায় ৭টা, ট্রেন ছাড়েনি। সোনার বাংলা ঢাকা থেকেও চট্টগ্রাম এসেছে প্রায় ২ ঘণ্টা বিলম্বে। চট্টগ্রাম থেকে ছাড়তে দুই ঘণ্টার বেশি বিলম্ব হয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার আজাদীকে বলেন, আজকে (শনিবার) ইঞ্জিন সংকটের কারণে বেশ কয়েকটি ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে। ইঞ্জিনের সংকট বেশি ছিল। সোনার বাংলা বিলম্বিত হয়েছে। বিজয় এক্সপ্রেস, সাগরিকাসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হয়েছে। আসতেও বিলম্বিত হয়েছে।বিজয় এক্সপ্রেসের যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় স্টেশনে এসেছি। এসে শুনি ট্রেন বিলম্ব হবে। দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি ট্রেনের জন্য। এত যাত্রীর একসাথে বসার ব্যবস্থাও নেই। স্টেশন এলাকায় ভালো মানের খাবারের হোটেলও নেই। প্রায় সময় ট্রেন বিলম্ব হওয়ার কথা জানিয়ে রফিকুল ইসলাম নামে অপর একজন যাত্রী বলেন, সব সময় শুনে আসছি ট্রেনে যাত্রী সেবার মান বাড়ানো হবে। আমরা যারা ট্রেনের যাত্রী আমাদেরকে প্রতি মাসে ঢাকা–সিলেট, ময়মনসিংহ–জামালপুর যেতে হয়। ইঞ্জিন সংকটের কারণে প্রায় সময় ট্রেন বিলম্ব হয়। বছরের পর বছর রেল কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিন সংকট দূর করতে পারছে না। রেলওয়ের জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন বিজয় এক্সপ্রেস। এই ট্রেনটি বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে জামালপুর রুটে নিয়মিত চলাচল করে। এটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে প্রতিদিন জামালপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। গতকাল ট্রেনটির প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। বিজয় এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত যায় এবং একইভাবে ফিরে আসে।
এদিকে সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রাম এবং চাঁদপুরের মধ্যে চলাচল করে। পথে ফেনী, লাকসামসহ বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি নেয়। সাগরিকা এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে চাঁদপুর পৌঁছায় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে। চাঁদপুর থেকে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছায় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে।

