ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদ, অপমান সইতে না পেরে অটোচালকের আত্মহত্যা

ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদ, অপমান সইতে না পেরে অটোচালকের আত্মহত্যা

৩ March ২০২৬ Tuesday ১২:৩৬:২১ PM

Print this E-mail this


নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :

ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদ, অপমান সইতে না পেরে অটোচালকের আত্মহত্যা

পিরোজপুরের নেছারাবাদে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজ (৩০) নামের এক অটোরিকশাচালককে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে চুরির অভিযোগে মারধরের পর অপমান সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন, এমন অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যার পর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের বালিহারি গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। নিহত ব্যক্তির ঘরে পাঁচ বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

নিহত ব্যক্তির মা শাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, ১ মার্চ সকালে চৌকিদার মো. হানিফ মিয়া ‘কথা আছে’ বলে তাঁর ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। সেখানে রুবেল হোসেন নামের এক দোকানি ও চৌকিদার হানিফ মিয়া তাঁকে মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে ছেলে চুরির কথা স্বীকার করে লিখিত দিতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন তিনি। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শানু মেম্বারের সামনেই এই ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ তাঁর।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে অটো চালিয়ে সংসার চালাত। তাকে মেরে জোর করে চুরির স্বীকারোক্তি নিয়ে কাগজে সই নেওয়া হয়েছে। সেই লজ্জা সইতে না পেরে সে বিষ খেয়ে মারা গেছে।’ তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী চোর না। ডেকে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। শিশুসন্তানের মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করলে সে বলেছে, চুরি করেনি। মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরে সে বিষ খেয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

অভিযুক্ত চৌকিদার মো. হানিফ মিয়া দাবি করেন, সবুজ গ্রামের কয়েকটি দোকানে চুরি করেছিলেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাঁকে পরিষদে ডাকা হয় এবং তিনি স্বেচ্ছায় লিখিত স্বীকারোক্তি দেন। কোনো মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তবে বিষপানের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি।

ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শানু মিয়া বলেন, ‘সে (মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজ) পরিষদে এসে চুরির কথা স্বীকার করেছে। লিখিত নেওয়া হয়েছে। মারধরের প্রশ্নই ওঠে না।’ বিষপানের বিষয়ে তিনি বলেন, বাড়িতে গিয়ে বিষপান করেছে বলে শুনেছি।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, থানায় একটি মরদেহ এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অপরাধী হলে ছাড় পাবে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন ও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts