সফটওয়্যার ও এআইয়ের এই দ্রুত অগ্রগতির কারণে রোবটগুলো আরও দক্ষ হয়ে উঠছে। কারণ, দিন দিন আরও উন্নত হার্ডওয়্যার যুদ্ধক্ষেত্রে এসে পৌঁছাচ্ছে। আহত সেনাদের দ্রুত উদ্ধারের সময়, একজন আহত সেনার প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে সফল হওয়ার আগে শত্রুর আঘাতে বেশ কয়েকটি রোবট ধ্বংস হতে পারে। যেমনটা নিউমো রোবোটিকসের ইউলিয়া ট্রিবুশনা বলেন, ‘একজন প্রকৃত সৈন্য বা মানুষ হারানোর চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে চারটি রোবট বা মেশিন হারানো অনেক ভালো।’
ইউক্রেন এই বছর ৫০ হাজারের বেশি রোবটযান মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। তবে ট্রিবুশনা অনুমান করেছেন, ফ্রন্টলাইনের বেশির ভাগ পজিশন বা অবস্থান মানুষের বদলে রোবট দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হলে শেষ পর্যন্ত বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ রোবটযানের প্রয়োজন হবে।
যুদ্ধাভিযানের সরাসরি কাজে এই রোবটগুলো এখনো তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। তবে এগুলো ব্যর্থ হয়েছে বলে এমন নয়; বরং বড় পরিসরে এগুলোকে যুদ্ধকৌশলে কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তার প্রয়োজনীয় সামরিক নীতি বা ডকট্রিন এখনো তৈরি হচ্ছে বলে জানান ট্রিবুশনা। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা একক কোনো ইউনিটের সাফল্য প্রথমে আসে, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকে সুনির্দিষ্ট বড় সামরিক কৌশলগুলো তৈরি হয় পরে।
স্থলভাগের রোবটগুলো এখনই পদাতিক বাহিনীকে পুরোপুরি মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে পারবে না। তবে তারা ক্রমান্বয়ে এমন অনেক কাজ নিখুঁতভাবে করছে, যা একসময় কেবল সেনারা সশরীর করতেন। এটি আসলে ভবিষ্যতের এক আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের প্রাথমিক আভাস দিচ্ছে, যেখানে রোবট বা যন্ত্রগুলো বুক চিতিয়ে এগিয়ে যাবে আর রক্ত-মাংসের সেনারা থাকবে তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বে, পেছনে।

