
ঢাকা, ১১ মার্চ – সাড়ে ২১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খানের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক।
সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার সংস্থার উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুষ, অর্থপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান, ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খান এবং মেয়ে শাফিয়া তাসনিম খানের নামে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে দুদক। একই দিনে সাবেক এই মন্ত্রীর এপিএস মনির হোসেনের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়।
দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মামলার তদন্ত চলাকালে আসামি লুৎফুল তাহমিনা খানের নামে ২০ কোটি ৯ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ মাত্র ৫ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ২২৭ টাকা। অর্থাৎ তার নামে ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪৭০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে। এই সম্পদ অর্জনের কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। দুদকের দাবি, স্বামীর সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
এছাড়া লুৎফুল তাহমিনা খানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০ টাকার উৎসও সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অর্থ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া ঘুষ বা উৎকোচ, যা অবৈধ উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যে হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যাংকে নগদায়ন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে আসামিরা মোট ২১ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তাদের সম্পদের মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাট, জমি, দোকান, ব্যবসার শেয়ার, ব্যাংক ব্যালেন্স, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং যাত্রীবাহী বাস।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আসাদুজ্জামান খান কামাল আত্মগোপনে রয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে।
এনএন/ ১১ মার্চ ২০২৬




