আ’লীগনেতার ৬০ লাখ টাকার জমি আত্মসাৎ করতে দেড় কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ!

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা ভানু লাল রায়ের ৬০ লাখ টাকার বায়না করা জমি আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই মালিকের জমি কেনাবেচায় প্রায় দেড় কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও উঠেছে। তবে দলিল পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা নিয়ে পাওয়া গেছে ভিন্ন তথ্য। সংশ্লিষ্ট দলিল সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জুনে বালিশিরা মৌজায় ৪.২৭২৬ একর জমি ৬ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার টাকায় কেনার জন্য বায়না করেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়। উক্ত বছরের ৮জুন ১৬২২ নম্বর রেজিস্ট্রারীকৃত বায়না দলিলের মাধ্যমে ৬০ লাখ টাকা পরিশোধও করেন তিনি। পরবর্তীতে বাকি টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে জমির মালিক গৌতম রুদ্র পাল, প্রিয়াঙ্কা প্রজাপতি রুদ্র পাল বায়নার টাকার সমমূল্যে ২ দাগে ৩৭.৪০ শতাংশ জমি ভানু লাল রায়ের নামে দলিল করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর ভানু লাল রায় বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি হওয়ায় ৩৭.৪০ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে নিতে পারেননি।

অভিযোগ রয়েছে, ভানু লাল রায় কারাগারে থাকা অবস্থায় রাজাপুর গ্রামের মৃত আছকির মিয়ার পুত্র মো: জসিম আহমেদ আমমোক্তার পরিচয়ে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর পৃথক দুটি দলিলে ৩৭.৪০ শতাংশ হইতে ৭.৪০ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেন। দলিল সম্পাদনের সময় কারাবন্দি ভানু লাল রায়ের পরিচয়ে অন্য একজনকে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে হাজির এবং শনাক্তকারী দেখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

পরদিন, ২৭ নভেম্বর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বিষয়টি জানতে পারেন ভানু লাল রায় ৫ জুলাই তিনি জসিম আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির ও প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর গৌতম রুদ্র পাল রাধানগর এলাকায় ৪ শতাংশ জমি ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রির জন্য সিরাজনগরের সৈয়দ নেছার উদ্দিনের সঙ্গে চুক্তি করেন। পরবর্তীতে জসিম আহমেদ প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। এ ঘটনায় সৈয়দ নেছার উদ্দিন জসিমের বিরুদ্ধে আদালতে আরেকটি মামলা করেন।

এদিকে গত ১৭ জুন জেলা রেজিস্ট্রার, মৌলভীবাজার বরাবর জসিম আহমেদ এক অভিযোগে দাবি করেন, ভানু লাল রায়ের অবিক্রীত জমি জমির মালিক ও দলিল লেখক সৈয়দ নেছার উদ্দিনের যোগসাজশে ভিন্ন ভিন্ন দলিলে বিক্রি করে প্রায় দেড় কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

তবে দলিল পর্যালোচনায়ও দেড় কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ মেলেনি। সম্পাদিত ৫১১৬/২৪, ৫১৩০/২৪, ৩১৩৯/২৪, ৫১৩৬/২৪, ৫১৩৫/২৪, ৫১৩৩/২৪, ৫১৩১/২৪, ৩১৩২/২৪, ৫১৩৪/২৪, ও ৫১২৯/২৪ নং এমন ১০ টি দলিল পর্যালোচনা করে মৌজা দর থেকে বেশী দরে দলিল সম্পাদন করতে দেখা গেছে।

শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি হাজী মো. ছায়েদ আলী বলেন, ‘মৌজা দর নির্ধারণ করা। সরকারি মৌজা দরের চেয়ে কম মুল্যে জমি রেজিস্ট্রি করার সুযোগ নেই।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে দলিল লেখক সৈয়দ নেছার উদ্দিন বলেন, ‘জসিম আহমেদ একসময় তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। নানা অপকর্ম জালিয়াতি ও আমার জায়গা নিজের নামে এবং ভানু লাল রায়ের ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ চেষ্টা- এসব কারণে তাকে কাজ থেকে বাদ দেই। এরপর থেকেই তিনি প্রতিহিংসাবশত এসব অভিযোগ করছেন।’ তিনি বলেন, ‘বর্ণিত দলিল সম্পাদনকালে জসিম আহমেদ দলিলদাতা ও গ্রহীতার সাথে ছিলেন। টাকা লেনদেন করেছেন। অন্তত ১০টি দলিলে জসিম সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন।’

এ বিষয়ে- জসিম আহমেদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ‘ব্যস্ত আছেন- পরে কথা বলবেন’ বলে ফোন রেখে দেন।

শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, ‘অভিযোগে ঢালাও ভাবে দেড় কোটি টাকার কর ফাঁিকর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’

ডিএস/এফআর/এসএ

Explore More Districts