শুভব্রত আমান/
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমের জেলা খ্যাত সাতক্ষিরা ও মেহেরপুরে বিভিন্ন আম বাগানে ইতোমধ্যেই ফুটেছে আগাম মুকুল। সোনালি রঙের মুকুল থেকে বের হচ্ছে মিষ্টি ঘ্রাণ, যা চারপাশে ভাসছে আনন্দের সুঘ্রাণে। অনুকূল আবহাওয়া আর চাষিদের নিবিড় পরিচর্যায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছে জেলা কৃষি বিভাগ।
এই বছর এ দুটি জেলা থেকে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরায় ৭১ হাজার টন ও মেহেরপুরে ৪৪ হাজার টনের টার্গেট ধরা হয়েছে।
সাতক্ষিরায় এ বছর ৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আমের আবাদ হয়েছে, অন্যদিকে মেহেরপুরে আবাদ হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে।
জেলা দুটিতে বেশ কয়েকটি জাতের আম উৎপাদিত হয়ে থাকে। এর কয়েকটি দেশজুড়ে জনপ্রিয়।
সাতক্ষীরা মূলত এর সুস্বাদু ও বিষমুক্ত হিমসাগর আমের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত, যা মে মাসের শেষের দিকে বাজারে আসে। এছাড়াও, এখানে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, ল্যাংড়া, বোম্বাই, গোলাপখাস, আম্রপালি ও বৈশাখী জাতের আম বেশ জনপ্রিয়। এখানকার আম আঁশমুক্ত, সুমিষ্ট এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়
সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলার ছোট-বড় সব বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছগুলোতে মুকুলের সমারোহ। আম চাষিরা ব্যস্ত রয়েছে পরিচর্যায়।
কলারোয়া উপজেলার বাগান মালিক আব্দুর রহিম জানান, এ বছর তিনি ১০ বিঘা জমিতে হিমসাগর ও ল্যাংড়া জাতের আমের গাছে এবার প্রতিটি ডালে মুকুল এসেছে। তিনি প্রাকৃতিক উপায়ে আম চাষ করেন। নিয়মিত গাছের গোড়ায় পানি ও জৈব সার দেন এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক নিয়মিত স্প্রে করেন।
তালা উপজেলার ক্ষুদ্র চাষি মফিজুল হক বললেন, ‘গত বছর বাজারদর ভালো ছিল না, কিন্তু এবার মুকুল দেখে মনে হচ্ছে ফলন অনেক বেশি হবে। মুকুলের যে ঘ্রাণ বের হচ্ছে, তাতে বুক ভরে যায়।
এই আমা চাষি মনে করছেন, এবার বিদেশের বাজারেও এ জেলার আমা যাবে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানালেন, ‘সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তার অফিস মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদনের জন্য চাষিদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।’
সাতক্ষীরার মতো মেহেরপুরেও এখন বাগানগুলোতে মুকুলের সমারোহ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন। জেলার প্রায় ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে এ বছর ৪৪ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মেহেরপুরের চাষিরা জানান, গাছে গাছে সোনারঙা মুকুল নুয়ে পড়েছে, আর পোকার আক্রমণ ঠেকাতে তারা নিরলসভাবে পরিচর্যা করছেন।
এদিকে ভালো ফলনের মধ্যে রপ্তানি ও আম সংগ্রহের সময়সীমা নিয়ে চাষিদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাগান মালিকরা অভিযোগ করেন, যথাসময়ে আম সংগ্রহের অনুমতি না থাকায় কখনও বাজারে তুলতে দেরি হয়, আবার রপ্তানির সুযোগ না থাকায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
এ বিষয়ে কথা বলেন মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সনজীব মৃধা। তিনি বলেন, আম রপ্তানির সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আম সংগ্রহের সঠিক সময় নির্ধারণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত জানানো হবে, যাতে বাগান মালিক ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন সব মিলিয়ে, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং সময়মতো ব্যবস্থাপনা করা যায়, তবে এবারের মৌসুমে দুই জেলায়ও বাম্পার ফলন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা থাকবে।


