আমতলীতে হঠাৎ দেবে গেল নির্মীয়মাণ ৫ কোটি টাকার সড়কের একাংশ

আমতলীতে হঠাৎ দেবে গেল নির্মীয়মাণ ৫ কোটি টাকার সড়কের একাংশ

৪ August ২০২৬ Tuesday ১২:৪৮:৪৬ PM

Print this E-mail this


আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

আমতলীতে হঠাৎ দেবে গেল নির্মীয়মাণ ৫ কোটি টাকার সড়কের একাংশ

বরগুনার আমতলী-গাজীপুর ভায়া তালুকদারবাজার আঞ্চলিক সড়কের সরকারি টেকনিক্যাল স্কুলের পশ্চিম পাশে কালিবাড়ি এলাকায় নির্মীয়মাণ সড়কের অন্তত ২০০ ফুট দেবে গেছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।হঠাৎ করেই এক সপ্তাহ আগে কালিবাড়ি খালের পাশ দিয়ে সড়কের একাংশ ফাটল নিয়ে প্রায় ২-৩ ফুট নিচে দেবে গেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে জানা যায়, বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমতলী সরকারি একে পাইলট হাই স্কুল চৌরাস্তা থেকে আমতলী-গাজীপুর ভায়া তালুকদারবাজার সড়কের পুনর্নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই সড়কের তালুকদারবাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটির কার্যাদেশ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানটির হয়ে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান খান বাদল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মীয়মাণ ওই সড়কের কালিবাড়ি এলাকায় প্রায় ২০০ ফুট অংশ ফাটল নিয়ে নিচে দেবে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় ও যানবাহন চালকরা ঝুঁকিপূর্ণ অংশে লাঠির সঙ্গে লাল কাপড় টাঙিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন। দেবে যাওয়া সড়কটির ওই অংশে এখন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন।

বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী বিভাগের একটি টিম সড়কের দেবে যাওয়া অংশ পরিদর্শন করেছেন।

ওই সড়কে চলাচলরত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক লিটন বলেন, ‘দেবে যাওয়া সড়কের ওই অংশ দিয়ে আমাদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বেশি সমস্যা হচ্ছে।’

ট্রাকচালক মোস্তফা বলেন, ‘লোড গাড়ি নিয়ে দেবে যাওয়া সড়কটির ওই অংশ পার হতে এখন ভয় করে। কখন জানি দুর্ঘটনা ঘটে।’

সড়ক নির্মাণের ঠিকাদার চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান খান বাদল মুঠোফোনে বলেন, ‘যেখানে সড়ক দেবে গেছে, সেখানে পুনরায় নির্মাণকাজ করা হবে।’

উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘সংবাদ পেয়েই দেবে যাওয়া সড়ক পরিদর্শন করেছি। সড়কের ওই অংশটা কালিবাড়ি খালের পাশ দিয়ে হওয়ায় সড়কের একটি অংশ দেবে গেছে। ঠিকাদারকে বলা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ করে দিতে।’

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ‘সড়ক দেবে যাওয়ার বিষয়টি জেনেছি। ঠিকাদার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ না করা পর্যন্ত কোনো বিল দেওয়া হবে না।’

বরগুনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে আসার পর দেবে যাওয়া সড়কটি পরিদর্শন করতে একটি টিম পাঠিয়েছিলাম। করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts