| ২৪ July ২০২৬ Friday ৬:৪০:৪২ PM | |
আমতলী ((বরগুনা) প্রতিনিধি:

ছোট ভাইয়ের বউয়ের সঙ্গে পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় সুপ্রিয়া রানীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুপ্রিয়ার মৃত্যুর পর হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়েছেন অজয় ও তার স্বজনরা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে আমতলী উপজেলার হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অজয়কে প্রধান করে আমতলী থানায় হত্যা মামলা করেছেন তার শাশুড়ি দেপালী রানী। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ শুক্রবার দুপুরে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বড় বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে।
জানা গেছে, ২০১২ সালে গাজীপুর বন্দরের বিমল বেপারীর মেয়ে সুপ্রিয়ার সঙ্গে হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামের গোপাল চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নানাভাবে সুপ্রিয়াকে নির্যাতন করে আসছেন অজয়- এমন অভিযোগ মা রানীর।
দেপালী রানী অভিযোগ করেন, গত পাঁচ বছর ধরে অজয় চন্দ্র হাওলাদার তার ছোট ভাই উত্তর হাওলাদারের স্ত্রী স্বরনিকার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এর প্রতিবাদ করেন সুপ্রিয়া। এর জেরে বেশ কয়েকবার অজয় তার স্ত্রী সুপ্রিয়াকে নির্যাতন করেন।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে স্বামীর পরকীয়া নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সুপ্রিয়াকে বেধড়ক মারধর করেন অজয়। সুপ্রিয়া তাকে মারধরের কথা তার মা দেপালী রানীকে মোবাইলে জানান। এর কিছুক্ষণ পর অজয় চন্দ্র হাওলাদার তার শাশুড়িকে মোবাইলে জানান সুপ্রিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছেন। এরপর তার স্বামী ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক মো. নাজমুল হাসান রাহাত তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন।
এদিকে মৃত্যুর খবর জেনে অজয় ও তার স্বজনরা লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে আমতলী থানার নিয়ে যায়।
নিহত সুপ্রিয়ার মেয়ে মিথিলা বলেন, বাবার পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় মাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
দেপালী রানী কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, অজয় তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী স্বরনিকার সঙ্গে পরকীয়া করতেন। আমার মেয়ে এর প্রতিবাদ করায় পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজয় চন্দ্র হাওলাদার ও তার ভাইয়ের স্ত্রী স্বরনিকাসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হাসান রাহাত বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই সুপ্রিয়া মারা গেছেন।
আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রমা রানী নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |
