আমতলীতে কলেজ ভবনে বসবাস, হচ্ছে না পাঠদান

আমতলীতে কলেজ ভবনে বসবাস, হচ্ছে না পাঠদান

১৫ January ২০২৬ Thursday ১:৩২:৪৭ PM

Print this E-mail this


আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :

আমতলীতে কলেজ ভবনে বসবাস, হচ্ছে না পাঠদান

বরগুনার আমতলী উপজেলার টিয়াখালী কলেজ ভবনের দুটি তলার কক্ষে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানসামগ্রী রাখা হয়েছে। বাইরে তৈরি করা হয়েছে খোলা শৌচাগার। ভবনে আবাস গড়েছেন শ্রমিকেরা। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আট দিন ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে আসছেন না শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার সরেজমিনে কলেজটিতে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন কোম্পানির খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানসামগ্রী রাখা হয়েছে কলেজটিতে। চলতি মাসের প্রথম দিকে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখানে আসেন। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যত প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান বন্ধ হয়ে আছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী ওই শ্রমিক-কর্মকর্তাদের টিয়াখালী কলেজ প্রাঙ্গণে তাঁবু খাটিয়ে থাকার অনুমতি দেন। তবে কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. খালেদ মোশাররফ সোহেল কলেজ ভবনে ওই শ্রমিক-কর্মকর্তাদের থাকতে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে কলেজের প্রাঙ্গণে খোলা শৌচাগার করায় দুর্গন্ধে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে কলেজের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা কলেজে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) সঙ্গে চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য চুক্তি রয়েছে। ওই চুক্তি ২০২৭ সালের জুন মাসে শেষ হবে। চুক্তি অনুযায়ী চায়না ন্যাশনাল কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানুয়ারি মাসের শুরুতে আমতলী উপজেলায় সার্ভের কাজ শুরু করেন। এতে তাদের ৩৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন।

বুধবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কলেজে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থী আসেননি। কলেজের চারতলা ভবনের নিচতলা ও চতুর্থতলায় কোম্পানির লোকজন অনুসন্ধানসামগ্রী বোঝাই করে রেখেছেন। ভবনের সামনের অংশেও রাখা হয়েছে বিভিন্ন সামগ্রী। কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভবনে বসবাস করায় কলেজের পাঠদান বন্ধ আছে। এ দিকে খোলা শৌচাগার থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজ ভবনের মধ্যে কোম্পানির মালামাল রাখা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী বসবাস করায় গত আট দিন ধরে কলেজে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ক্যাম্প ইনচার্জ মো. আরজ আলী বলেন, ‘আমি পাঁচ দিন আগে এসেছি। তবে শুনেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কলেজ প্রাঙ্গণে তাঁবু সাঁটিয়ে থাকার অনুমতি দিয়েছেন।’

টিয়াখালী কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. খালেদ মোশাররফ সোহেলকে কল করা হলে তিনি বলেন, ‘নিউজ করতে চান, নিউজ করেন। দেখি তাতে আমার কী হয়।’

ইউএনও জাফর আরিফ বলেন, চায়না পেট্রোলিয়াম করপোরেশন কোম্পানির লোকজনকে কলেজের বাইরে তাঁবু খাটিয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলেজের ভবন ব্যবহার করার কোনো অনুমতি তাঁদের দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, কলেজের পাঠদান বন্ধ করে কোনো কিছুই করা যাবে না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts