রাঙামাটি জেলায় জ্বালানি তেল সংকটের কারণে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারী যাত্রীবাহী স্পিডবোট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নৌ–পথে চলাচল করা যাত্রীরা। তেল সংকটের দ্রুত সুরাহা না হলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলও–এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে জ্বালানি তেলের সংকটের ফলে রাঙামাটির সঙ্গে লংগদু, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি রুটের যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে বন্ধ রাখতে হয়েছে স্পিডবোট চলাচল।
স্পিডবোট চালক মো. সিদ্দিক জানান, আমাদের একটি বোট রাঙামাটি থেকে ৭০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে লংগদু পৌঁছাতে মিনিমাম ৩৫ লিটার পেট্রোল প্রয়োজন হয়। কিন্তু পাম্প থেকে দেয় মাত্র ১০ লিটার। তা দিয়ে তো স্পিডবোট চালানো সম্ভব না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা বন্ধ রেখেছি।
এদিকে, স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা অনেক ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন লংগদু উপজেলার যাত্রী মো. শুক্কুর আলী। তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় আমার শ্যালিকার প্রসবজনিত সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে রেফার করা হয় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে। এমন সময়ে স্পিডবোট ছাড়া বিকল্প কোনো পরিবহন আর পাওয়া যায় না। স্পিডবোটে তেল না থাকায় তারাও যেতে অপারগতা জানায়। এরপর আমরা সেনাবাহিনীর লংগদু জোনের সহায়তা চাই। তারাও কোনো পাম্পে তেল না পেয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল থেকে ২০ লিটার তেল দেয়। তখন একটি ছোটো স্পিডবোট নিয়ে আমরা রাঙামাটি শহরে আসতে পারি। তখন রাত প্রায় ১০টা। এরপর রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে কোনো চিকিৎসা না পেয়ে চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীর সিজার করা হয়। তবে গর্ভের সন্তানটি মৃত প্রসব করে। এতে বর্তমানে রোগীর অবস্থাও সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যারা কাপ্তাই হ্রদ দিয়ে যাতায়াত করি তাদের জরুরি প্রয়োজনে এখন স্পিডবোট একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহন। এখন তেল সংকটে যদি এই পরিবহন বন্ধ থাকে তাহলে আমাদের ভোগান্তি বেড়ে যাবে। প্রয়োজনে অল্প সংখ্যক স্পিডবোট সচল রাখার দরকার। যাতে জরুরি প্রয়োজনে আমাদের উপকার হয়।
রাঙামাটি স্পিডবোট ঘাটের লাইনম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, আগে রাঙামাটি থেকে প্রতিদিন ১৫–২০টি স্পিডবোট বিভিন্ন রুটে চলাচল করতো। কিন্ত বর্তমানে তেল সংকটের কারণে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাম্পগুলো থেকে যে পরিমাণ তেল দেয় তা স্পিডবোট চলাচলের জন্য খুবই কম।
এদিকে তেলের অভাবে কাপ্তাই হ্রদে লঞ্চ চলাচল যে কোনো সময় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মো. মঈন উদ্দিন সেলিম। তিনি বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে কাপ্তাই হ্রদে নৌযান চলাচল বন্ধের আশঙ্কা রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে নৌ–পথে ১০টি রুটে লঞ্চ চলাচল করে প্রায় ৩০–৩৫টি। এতে দৈনিক ১২০০–১৫০০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের যা মজুদ আছে তা দিয়ে আজ (মঙ্গলবার) চলাচল করা যাবে। যদি জ্বালানি না পাই তাহলে বুধবার (আজ) থেকে উপজলোগুলোর সঙ্গে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমরা অনেক চেষ্ট করছি কোথাও থেকে ডিজেল পাচ্ছি না। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে। সংকট সমাধানরে চেষ্টা চলছ। আশা করছি তেলের অভাবে লঞ্চ বন্ধ হবে না। স্পিডবোটে বেশি জ্বালানি প্রয়োজন তাই তাদেরকে রেশনিং করে দেয়া হচ্ছে।
এর আগে, গত ১৫ মার্চ জ্বালানি তেল সংকটের কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে জ্বালানি তেল সংকট কিছুটা কমে যাওয়ায় একদিন পর স্পিডবোট চলাচল সচল হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে আবারও বন্ধ হয়ে গেল কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারী দ্রুতগামী এ নৌযানটি।


