আদর্শিক লক্ষ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করতে হবে : ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান

আদর্শিক লক্ষ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করতে হবে : ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান

আদর্শিক লক্ষ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করতে হবে : ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতি ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেছেন, কেমুসাস সুস্থধারার সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই আদর্শিক লক্ষ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সবাইকে কাজ করতে হবে। গবেষক কলিম উল্লাহ সেই কাজটি করতে এগিয়ে এসেছেন। কেমুসাসের আদর্শের সাথে তাঁর ব্যক্তিচিন্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি যে গবেষণাকর্মগুলো উপহার দিয়েছেন, সেগুলো আমাদের জাতিসত্তার উপাদান হতে পারে। জাতিসত্তার স্বাতন্ত্র্য নির্মাণে আমাদের চিন্তাভাবনাকে প্রসারিত করা উচিত। দেওয়ান আহবাব স্বর্ণপদক সেটা এগিয়ে নিতে পারে।

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট-এর উদ্যোগে বিশিষ্ট গবেষক মোহাম্মদ কলিম উল্লাহকে ৬ষ্ঠ কেমুসাস দেওয়ান আহবাব স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

সংসদের মুখপত্র আল ইসলাহ-এর সম্পাদক আহমদ মাহবুব ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. কামাল আহমদ চৌধুরী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন, সংসদের সহ সভাপতি সৈয়দ মুহিবুর রহমান, রুহুল ফারুক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান এ এইচ মাহমুদ রাজা চৌধুরী, বর্তমান সহ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল মুকিত অপি, সহ পাঠাগার সম্পাদক ইশরাক জাহান জেলী, কার্যকরী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট কামাল তৈয়ব, কেমুসাস মতিন-উদ-দীন আহমদ জাদুঘরের পরিচালক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, কেমুসাসের পৃষ্ঠপোষক সদস্য গবেষক তাবেদার রসুল বকুল, দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি মুহিত চৌধুরী, দৈনিক সিলেটের ডাকের সাবেক ব্যবস্থাপনা সম্পাদক দেওয়ান তৌফিক মজিদ লায়েক এবং অনুভূতি ব্যক্ত করেন ৬ষ্ঠ কেমুসাস দেওয়ান আহবাব স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত গবেষক কলিম উল্লাহ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল এবং পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সংসদের জীবন সদস্য ক্বারী আব্দুল বাছিত। অনুষ্ঠানে গবেষক কলিম উল্লাহকে স্বর্ণপদক এবং সম্মাননাপত্র তুলে দেন সংসদের সভাপতি ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খানসহ অতিথিবৃন্দ।

সংসদের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী বলেন, কেমুসাস দেওয়ান আহবাব স্বর্ণপদকটি গুণী ব্যক্তিত্বকে সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্য নিয়েই শুরু হয়েছে। কেমুসাসের সাথে দেওয়ান আহবাব চৌধুরীর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। তাঁর সৃষ্টি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। আমাদের মাঝে অসংখ্য মেধাবী ও গুণসম্পন্ন মানুষ আছেন, যারা এই কাজটি করতে পারেন। আমরা যদি চিন্তাধারায় গতিশীলতা ধরে রাখতে পারি, তবে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. কামাল আহমদ চৌধুরী বলেন, গবেষক কলিম উল্লাহ গবেষণার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। নীরবে নিভৃতে থেকেও যে গবেষণাকর্ম করা যায়, এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গবেষক কলিম উল্লাহ। সাহিত্যে অনেক বিখ্যাত মানুষ আছেন, যারা হারিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন লালন সাঁই। কেউ না কেউ তাঁকে তুলে ধরার কারণে আমাদের সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়েছে।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেন, দেওয়ান আহবাব চৌধুরীর কথা একসময়ের বিখ্যাত পত্রিকা দৈনিক সংবাদের সম্পাদকীয় পাতায় এসেছে। সেখান থেকে তাঁর উচ্চমার্গীয় চিন্তাধারার ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। তিনি রেনেসাঁর জন্য কাজ করেছেন। তাঁর চিন্তাধারায় এর প্রভাব সুস্পষ্ট। গবেষক কলিম উল্লাহ দেওয়ান আহবাব স্বর্ণপদক পেয়ে গবেষণাজগতে আরো ভূমিকা রাখবেন বলে বিশ্বাস করি।
সংসদের সহ সভাপতি সৈয়দ মুহিবর রহমান বলেন, কেমুসাস দেওয়ান আহবাব স্বর্ণপদক একজন নিভৃতচারী গবেষককে প্রদান করেছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। দেওয়ান আহবাব তাঁর পূর্ব পুরুষদেরকে স্মরণ করেছেন। যেভাবে গবেষক কলিম উল্লাহ ইতিহাস-ঐতিহ্যের গবেষণায় সময় কাটিয়েছেন। দেওয়ান আহবাবের চিন্তাধারা তরুণ সমাজের কাছে প্রচার করতে হবে।
সংসদের সহ সভাপতি রুহুল ফারুক বলেন, দেওয়ান আহবাব চৌধুরী তাহজিব-তমুদ্দুন রক্ষায় কাজ করেছেন। তিনি সত্যকে সত্য, সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতেন। অন্যায়কে তিনি কখনো সহ্য করতে পারতেন না। তাঁর চিন্তায় মুসলিমদের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং জাগরণের কথা এসেছে।

সংসদের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল বলেন, দেওয়ান আহবাব চৌধুরীর পঠন-পাঠন ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাঁর চিন্তাধারা ছিল অত্যন্ত শানিত। মাসিক মোহাম্মদী, আল ইসলাহ-সহ অসংখ্য পত্র-পত্রিকা এবং সাময়িকীতে তাঁর লেখা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দেওয়ান আহবাবের রচনাকে সামনে আনতে কাজ করেছেন দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী। এছাড়া দেওয়ান আহবাব চৌধুরীর দৌহিত্র ব্যারিস্টার দেওয়ান মাহদীও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন। আমাদের সমাজে যেসকল গুণী মানুষ নীরবে নিভৃতে কাজ করছেন, তাদেরকে বের করে আনার জন্যই দেওয়ান আহবাব স্বর্ণপদক প্রবর্তন করা হয়েছে।
সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান এ এইচ মাহমুদ রাজা চৌধুরী বলেন, ১৯৩২ সালে বাংলা ভাষার পক্ষে আল ইসলাহে প্রবন্ধ লিখেছেন দেওয়ান আহবাব চৌধুরী। তিনি ছিলেন একজন খাঁটি মুমিন, যিনি আসাম পার্লামেন্টে আজান দিয়েছেন। তাঁর চিন্তাধারায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

অনুভূতি ব্যক্ত করে গবেষক কলিম উল্লাহ বলেন, সিলেটের ইতিহাস বিনির্মাণে আমি প্রতিনিয়ত নিয়োজিত রয়েছি। ইতিহাসের তথ্য-উপাত্ত নিরীক্ষণের জন্য আমি যোগ্য নই। তবুও ঐতিহ্যের দায় থেকে আমি গবেষণায় আগ্রহী হই। আমার গবেষণা কর্মের কারণে কেমুসাস যে সম্মান দিয়েছে, এতে বৃহত্তর জৈন্তার সবাই সম্মানিত হয়েছেন। এজন্য আমি কেমুসাস কর্তৃপক্ষের কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

ডিএস/এএসসি

Explore More Districts