আজ মুন্সীগঞ্জে বাপুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন | munshiganjnews.com

আজ মুন্সীগঞ্জে বাপুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন | munshiganjnews.com

মোহাম্মদ সেলিম
আজ ৩রা জুন শুক্রবার বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে দু’টি প্যানেল থেকে ১৩টি পদের জন্য এই নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তবে ইতোমধ্যে ১৩টি পদের মধ্যে একটি পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর যাচাই বাছাই শেষে তা বাতিল করা হয়েছে।

বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রটি ছিল হাজী মোঃ শাহ আলম লিটন-মিরাজ হোসেন তানিন পরিষদের প্রার্থী। এছাড়া হাজী মোঃ শাহ আলম লিটন-মিরাজ হোসেন তানিন পরিষদ থেকে ১৩টি পদের মধ্যে তারা আরো ২টি পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি।

এর ফলে উমা শংকর সরকার-মনির হোসেন পরিষদ থেকে ইতোমধ্যে ৩টি পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় বিজয়ী হয়ে বসে আছেন। তাতে এখানে এখন মোট ১০টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেল দু’টি হচ্ছে হাজী মোঃ শাহ আলম লিটন-মিরাজ হোসেন তানিন পরিষদ ও উমা শংকর সরকার-মনির হোসেন পরিষদ। এ নির্বাচন এখন এখানে বেশ জমে উঠেছে।

এই নির্বাচনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট প্রদান করবেন। মুন্সীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ভোট উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

এ নির্বাচনকে ঘিরে আলোচিত একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে অনেকের বিরুদ্ধে। আর তা নিয়ে ভোটের মাঠে দু’টি প্যানেলের প্রার্থীরা সোচ্চার হয়ে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। এরমধ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অভিযোগনামা দাখিল করেছন নির্বাচন কমিশনের কাছে হাজী মোঃ শাহ আলম লিটন-মিরাজ হোসেন তানিন পরিষদের প্যানেলের প্রার্থীরা।

এ নির্বাচনে দু’টি প্যানেল থেকে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনায় দৌঁড়ঝাপ করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ নির্বাচনে মোট ভোটার হচ্ছে ১২৭জন। বাপুসের মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কমিশনার হচ্ছেন মুন্সীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দিন।
জানা গেছে,

ভোটার তালিকায় ২৬নং ভোটার হচ্ছেন মা বাবা লাইব্রেরির মালিক মো: মহিউদ্দিন আহমেদ। তার ঠিকানা হচ্ছে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং-টঙ্গীবাড়ী ইউনিয়নের বরুলিয়া এলাকায়। অথচ এখানে প্রার্থীরা ভোট চাইতে

গিয়ে সেখানে এ ধরণের কোন লাইব্রেরী তারা খুঁজে পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এ ভুয়া ভোটারের বিরুদ্ধে ভোট বাতিলের দাবিতে হাজী মোঃ শাহ আলম লিটন বাপুসের নির্বাচন কমিশন বোর্ডের কাছে নালিশ দাখিল করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাপুসের ৩রা জুনের নির্বাচনে জয় লাভের লক্ষ্যে এই নামে ২৬নং ভুয়া ভোটার বানানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মো: মহিউদ্দিন আহমেদ প্রকৃত অর্থে বইয়ের ব্যবসা করেন না। তিনি ঢাকাতে ঠিকাদারি ব্যবসা করেন বলে জানা গেছে। তবে কেন তাকে এখানে ভোটার বানানো হলো। তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে?
বাপুসের এই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মনির হোসেনের বরুলিয়া এলাকায় একটি কিন্ডার গার্ডেন রয়েছে বলে জানা গেছে। সেই কারণে সেখানে তিনি এ নামে ভুয়া ভোটার বানান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ

বিষয়টি ব্যাপক ভাবে জানাজানি হলে মনির হোসেন তড়িগড়ি করে সেখানে একজন মহিলাকে দিয়ে বইয়ের দোকান ইদানিং ভাড়া নিয়েছেন বলেও জানা গেছে। এ ধরণের অডিও রেকর্ড এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভোটারদে মাঝে।

বাপুসের এই নির্বাচনে বর্তমান কমিটির নেতারা নানা অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০জন ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দেন ভোটার তালিকা থেকে। কিন্তু হাজী মোঃ শাহ আলম লিটন-মিরাজ হোসেন তানিন পরিষদের তোপের মুখে সেই ভোটারদের পরে ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করতে বাধ্য হন তারা।

ভোটের রাজনীতিতে ঐ ৩০জন ভোটার এখন হাজী মোঃ শাহ আলম লিটন-মিরাজ হোসেন তানিন পরিষদের পক্ষে ভোট প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আলোচিত বাদ পরা ভোটাররা এই নির্বাচনে হাজী মোঃ শাহ আলম লিটন-মিরাজ হোসেন তানিন পরিষদের দিকে ঝুঁকে আছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদি এই অবস্থা বিরজমান থাকে তবে এই নির্বাচনে হাজী মোঃ শাহ আলম লিটন-মিরাজ হোসেন তানিন পরিষদের বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে অনেকটা।

বাপুসের তহবিল সুরক্ষায় হাজী মোঃ শাহ আলম লিটন-মিরাজ হোসেন তানিন পরিষদ এই নির্বাচনে ভোটারদেরকে বুজানোর চেষ্ঠা করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে বর্তমান কমিটিকে কোনভাবেই ভোট দিবে না এমন আশংকায় ৩জন বই ব্যবসায়ির চাঁদার রশিদ কাটেননি বলে আরো অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের এ বিষয়ে সকল কাগজপত্র থাকা সত্তেও তিনজন বই ব্যবসায়ি বর্তমান কমিটির ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।

যাদের রশিদ কাটা হয়নি তারা হচ্ছেন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার মোঃ আতাউর রহমান। টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ব্রাক্ষনভিটা এলাকার মিজানুর রহমান ও দীঘিরপাড় এলাকার লিয়াকত হোসেন।
এদিকে বর্তমান কমিটির নেতারা নতুন বইয়ের দোকান মালিকদের কাছ থেকে ডোনেশন বাবদ একেক জনের কাছ থেকে একেক রকমের টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আবার অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বেশি কিন্তু রশিদ দিয়েছেন কম টাকার। এমনও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় এ নির্বাচনে ভোটাররা নিশ্চুপ রয়েছেন। তারা দু’প্যানেলের প্রার্থীদের কথাবার্তা শুধুমাত্র শোনছেন। ভোটের দিন তারা বেছে নিবেন তারা কাকে ভোট দেন।

Explore More Districts