আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : কাইয়ুম চৌধুরী

আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : কাইয়ুম চৌধুরী

আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : কাইয়ুম চৌধুরীসিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ধরনের গাফিলতি পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না।

শনিবার (৭ মার্চ ) সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জৈন্তা বার্তা আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন । ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
জৈন্তা বার্তার সম্পাদক ফারুক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিনসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনেরা।
পরে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন- সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট নগরীতে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা কিছুটা বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও একাধিকবার কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, “রমজান মাসে ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং নগরবাসী নিরাপদে কেনাকাটা করতে পারেন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। তবুও যদি কারো দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নগর উন্নয়ন প্রসঙ্গে সিসিক প্রশাসক বলেন, সিলেটকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “নগরবাসী যদি নির্ধারিত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন, তাহলে খুব সহজেই আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগর গড়ে তুলতে পারি। আমি আশা করি ব্যবসায়ী সমাজসহ নগরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এ কাজে সহযোগিতা করবেন।”

তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগে থেকেই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই এখন থেকেই পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে বর্ষাকালে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।

পরে সিসিক প্রশাসক বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলেও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানগুলোতে দেশ, জাতি এবং সিলেট নগরীর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

ডিএস/এমসি

Explore More Districts