অবৈধভাবে কানাইঘাট লোভাছড়ার পাথর লুটের হিড়িক, প্রশাসন নিরব

অবৈধভাবে কানাইঘাট লোভাছড়ার পাথর লুটের হিড়িক, প্রশাসন নিরব

অবৈধভাবে কানাইঘাট লোভাছড়ার পাথর লুটের হিড়িক, প্রশাসন নিরব

অবৈধভাবে সিলেটের কনাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া কোয়ারী এলাকা থেকে পাথর লুটের হিড়িক চলছে। জানা যায়,সরকারি ভাবে সিলেটের সকল পাথর কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন ও পরিবহন নিষিদ্ধ থাকলেও লোভাছড়া কোয়ারীতে দিনে-রাতে অবাধে পাথর উত্তোলন ও নৌযানে পরিবহন করা হচ্ছে।রহস্যজনক কারণে কানাইঘাটে প্রশাসনের ভূমিকা নিরব।এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।বর্তমানে কোয়ারীর সীমান্ত এলাকা ও লোভাছড়া থেকে পাথর উত্তলন করে ছোটছোট নৌকা দিয়ে উপজেলার লোভরমুখ বাজারঘাট,কানাইঘাট খেয়াঘাট,আন্দুরমুখ বাজারঘাট,দিঘিরপারঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রাম বাজারঘাট দিয়ে নির্বিঘ্নে পাথর সরবরাহ করা হচ্ছে।১৪ জুন রবিবার সরেজমিন কানাইঘাট খেয়াঘাট ঘুরে দেখা যায়, পাথরের কৃত্রিম পাহাড়। এসব কৃত্রিম পাহাড় তৈরী করেছেন, উপজেলার পিরনগর গ্রামের মৃত মছদ্দর আলীর পুত্র পাশা মখলিছ,পৌরসভার বায়মপুর গ্রামের মৌলভী জাকারিয়ার পুত্র হাসন আহমদ,বতা মিয়ার পুত্র আব্দুল বাছিত,চাপনগর গ্রামের করিম উদ্দিন,সাতবাঁক ইউপি সদস্য মঈনুল হক সহ বেশ কয়েকজন। তারা স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্যবসার জন্য পাথর সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নিলামের পাথরের নাম করে প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে কানাইঘাট খেয়াঘাটে পাথর সংগ্রহ করেছেন কয়েকজন,রাস্তার কাজ চলমান থাকায় বর্তমানে পাথর সরবরাহ করতে পারছে না বলে পাহাড়ের মতো করে সংগ্রহ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, লোভাছড়ার পাথর লুটে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদেরও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির কয়েকজন নেতা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা সরাসরি পাথর উত্তোলন দেখাশোনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এছাড়াও প্রশাসনের নামে চাঁদা আদায়ের কথাও জানান তারা।

সিলেটের প্রতিটি কোয়ারী এলাকায় প্রশাসনের অভিযান থাকলেও কানাইঘাটে নেই কেন এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের?

প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জব্দকৃত পাথর লুটের পাশাপাশি পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে বলেও দাবী করেছেন স্থানীয়রা। অপরদিকে জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রাম খেয়াঘাটে আওয়ামীলীগ নেতা উস্তার মেম্বারের নেতৃত্বে লোভাছড়ার পাথর সরবরাহ ও ক্রাশার মেশিনের স্বর্গরাজ্য তৈরী হয়েছে।

এসব ঘটনার ফলে নদীর পরিবেশ ও স্থানীয় জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়দের উদ্বেগ, প্রশাসনের সীমিত উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক নেতাদের যুক্তি এই সমস্যা আরও জটিল করে তুলেছে।

এব্যাপারে কানাইঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি তাপস চক্রবর্তী তুশার এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, গত সপ্তাহে কানাইঘাট খেয়াঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছি।পাথর সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।কেউ নতুন করে পাথর উত্তলন ও সরবরাহের কাজে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডিএস/এফআর/এসএ

Explore More Districts