
তীব্র তাপদাহের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। কেবল হিট স্ট্রোক বা পানিশূন্যতা নয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে মারাত্মক রূপ নিচ্ছে হাঁপানি এবং ত্বকের নানা জটিলতা। চিকিৎসকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত গরমের সাথে যখন বায়ুদূষণ যুক্ত হয়, তখন জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
দূষিত বাতাসের প্রভাব কেবল ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি ত্বকের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অংশেও ক্ষতিসাধন করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যারা আগে থেকেই অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য বর্তমান আবহাওয়া চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং দূষিত বায়ু ফুসফুসের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। বাতাসে থাকা ধূলিকণা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং পিএম ২.৫ এর মতো সূক্ষ্ম বিষাক্ত কণা শ্বাসনালিতে প্রদাহ তৈরি করে, যা দীর্ঘমেয়াদী কাশির পাশাপাশি শ্বাসকষ্টকে ত্বরান্বিত করে।
সিওপিডি আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
অন্যদিকে, গরমে ঘামের ফলে ত্বকের রোমছিদ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখানে বায়ুর বিষাক্ত উপাদান জমে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। এর ফলে ব্রণ, চুলকানি এবং ছত্রাকজনিত চর্মরোগ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে।
হঠাৎ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে বাইরের তপ্ত রোদে যাওয়ার ফলেও ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা দিনের মধ্যভাগে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, সামান্য অসতর্কতা বড় ধরণের শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে, তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এনএন/ ১১ মে ২০২৬





