বিশ্ব শরণার্থী দিবসে উদ্বাস্তু জীবনের ভাবনা

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে উদ্বাস্তু জীবনের ভাবনা

রোহিঙ্গারা তাদের রাষ্ট্র ও সেই রাষ্ট্রের জনগণ কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে, নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের অধিকার বঞ্চিত হয়ে, পরিশেষে উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ ও তার দলনেতা শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ প্রভৃতি বলে যে কৃতিত্বের দাবিদার হয়েছিলেন, ভাগ্যের কী করুণ পরিণতি, তাঁদের দলনেতাসহ অনেকেই আজ উদ্বাস্তু ও শরণার্থী!

এখন আমাদের সবার ভেবে দেখার বিষয় হয়ে উঠেছে, একটি রাষ্ট্রের একজন নাগরিকের হঠাৎ উদ্বাস্তু হয়ে পড়ার কারণ কোথায় নিহিত রয়েছে। আমাদের মধ্যে যাঁরা আকস্মিকভাবে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছেন, তার জন্য অনেকে ক্ষুব্ধ, অনেকে খুশিতে ডগমগ, অনেকে চোখের জলে ভাসছেন। কিন্তু আমার মন তাঁদের জন্য দুঃখে ভারাক্রান্ত। এই উদ্বাস্তু হওয়ার কারণ খুঁজে পেলে দেখতে পাব, রোহিঙ্গাদের উদ্বাস্তু হয়ে পড়ার কারণের সঙ্গে আমাদের বারবার উদ্বাস্তু হওয়ার মিল খুঁজে পাওয়া যাবে।

আমার এই লেখায় উদ্বাস্তু বা শরণার্থী জীবনের অভিজ্ঞতা, সেই দুঃসহ জীবনের ভার বা তার মর্মবস্তুর কোনো ছিটেফোঁটাও ব্যক্ত করতে পারব না। এখানে তা ব্যক্ত করার দুঃসাহস দেখানো আমার উদ্দেশ্যও নয়। কারণ সেই উদ্বাস্তু জীবনযাপনের সেই দুর্ভাগ্য আমার জীবনে কখনো নেমে আসেনি। একাত্তরে উদ্বাস্তু হয়ে পড়ার দুঃসহ-দুর্গম যাত্রার বিবরণ ও জীবনযাপনের কাহিনি বহু আমি পড়েছি; কিন্তু উদ্বাস্তু জীবনভোগী মানুষের অভিজ্ঞতার কিয়দংশও কারও জীবনচরিত পাঠে জানা যাবে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। আমিও তা–ই মানি। আমি ভাবতে চাইছি, মানবজীবনে সেই উদ্বাস্তু জীবনযাপনের দুঃসহ-দুর্ভাগ্য যেন কারও জীবনে নেমে না আসে, তার কারণ ও করণীয় কি খুঁজে দেখতে।

Explore More Districts